মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

মানসিক অসুস্থতা নিয়ে পুরুষদের লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই

1513369_Tweets_That_Prove_No_Man_Should_Be_Ashamed_Of_Depressionপুরুষ হিসেবে আমরা আমাদের অনুভূতিগুলো একটু ভিন্নভাবেই যেন প্রকাশ করি। আমরা আমাদের আবেগানুভূতিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেই যেন বেশি পছন্দ করি। অথবা অন্তত যেন সে রকমটাই মনে হয় সেই প্রত্যাশাই করি। আমরা চাই আমাদেরকে যেন মানসিকভাবে শক্তিশালী ও স্থিতিশিল মনে হয়। ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সাইকোথেরাপি বা মনঃসমীক্ষণ বিভাগের অধ্যাপক ড. জন এস. অগ্রোডনিকজুক বলেন, আমাদের বেড়ে ওঠার দিনগুলোতেই আমাদের মধ্যে এই সাংস্কৃতিক প্রত্যাশাটুকু ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ২০১১ সালে এই বিষয়ে এক গবেষণায় তিনি লিখেছেন, এই সাংস্কৃতিক প্রত্যাশা থেকেই মূলত ‘বড়দের কাঁদতে নেই’ এই প্রবাদটির প্রচলন করা হয়েছে। কিন্তু মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতায় ভোগার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন কোটি পুরুষের জন্য এই ধরনের সাংস্কৃতিক প্রত্যাশা তাদের জীবনকে সত্যিই কঠিন করে তোলে। এ কারণেই ভ্যাঙ্কুভার ভিত্তিক সংগঠন ‘হেডস আপ গায়জ’ এর মতো বেশ কিছু সংগঠন এই ধারণার প্রচলন করছে যে, মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতা কোনো দূর্বলতার চিহ্ন নয় বরং ‘এটি একটি বাস্তবতা। ছেলেরা, তোমরাও অবসাদে আক্রান্ত হও।’ এই সংগঠনগুলো মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতা সংক্রান্ত প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো- অবসাদ ব্যক্তিগত দুর্বলতার লক্ষণ, অপুরুষালি বা ‘সত্যিকার পুরুষ’ সূলভ নয়- এসব ধারণা খণ্ডানোর চেষ্টা করছে। বাস্তবেও মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতা সত্যিকার অর্থেই অসুস্থতা বা একটি রোগ। আর এর চিকিৎসাও সম্ভব। তাছাড়া বিষণ্নতা এমন একটি আবেগানুভুতি যা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের মধ্যেই আছে। তবে এ ক্ষেত্রে সত্যিকার শক্তিমত্তার পরিচয় হলো- এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে তা মোকাবেলা করে নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেওয়া। এজন্য প্রয়োজনীয় থেরাপি, ওষুধ সেবন এবং মনোযোগসহকারে কোনো বিষয়ের অনুশীলন প্রভৃতিসহ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মানসিক অসুস্থতাগুলোর একটি অবসাদ বা বিষণ্নতা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের জীবনে নেমে আসা প্রধান দুর্দশাগুলোর একটি এই অবসাদ বা বিষণ্নতা। সম্প্রতি দেশটিতে ন্যাশনাল মেনস হেলথ উইক উদযাপনের সময় এই বিষয়ে বিস্তর অনুসন্ধান চালানো হয়। টুইটারেও সম্প্রতি #আমি লজ্জিত নই, #যা তোমরা দেখতে পাওনা এবং #অসুস্থ দুর্বল নই, এমন সব হ্যাশ ট্যাগ ব্যবহার করে মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতা রোগ নিয়ে পুরুষদেরকে তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে দেখা গেছে। এ থেকেই প্রমাণিত হয় মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতা নিয়ে পুরুষদের আর লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। এমনই কিছু টুইট এখানে তুলে ধরা হলো- ”#আমি লজ্জিত নই, যে, আমার ট্রমাজনিত মানসিক অবসাদ এসেছে আমার সম্মানিত কর্মজীবন থেকে। আমি বরং তাদের ব্যাপারে লজ্জিত যারা দাবি করে এটি অবাস্তব অথবা আমি একজন কাপুরষ মাত্র।” ”#অসুস্থ দুর্বল নই, মানসিক অসুস্থতা নয় বরং সমাজে এ সম্পর্কিত যে অপধারণা প্রচলিত আছে তা-ই বরং আমার জীবনটাকে অসহনীয় করে তুলছে।” ”#মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কে যখন আমি ভাবি, এর বিরুদ্ধে আমি যে সংগ্রাম করেছি সে সংগ্রামের ক্ষমতাকে আমি ধন্যবাদ জানাই, এই ক্ষমতা আমাকে এমন পরিপ্রেক্ষিত দান করেছে যেটা আমি কখনোই অর্জনের কল্পনাও করিনি।” ”#মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিশৃঙ্খলা নিয়ে #আমি লজ্জিত নই। দু দুটো অবসাদ থেকে মুক্তির পর নিজেকে আমার #অবসাদ জিনিসটির চেয়েও অনেক বেশি কঠিন ও আপোষহীন লোক মনে হচ্ছে! #সকল অপধারণার অবসান ঘটুক”। ”মানসিক অসুস্থতা নিয়ে কথা বলে #আমি লজ্জিত নই। কারণ আমি বিশ্বাস করি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আমি অন্যদেরও মানসিক রোগ থেকে মুক্তিতে সহায়তা করতে পারব।” ”#অসুস্থ দুর্বল নই #আমি লজ্জিত নই, জীবন কোনো নিয়তি নয় বরং একটি সফরের মতো।” ”#আমি যখন মানসিক অসুস্থতা নিয়ে ভাবি, আমি এ কথাটিই বারবার স্মরণ করি- মানসিক অসুস্থতার ব্যাপারটি খালি চোখে দেখা যায় না। সূতরাং সকলের প্রতিই দয়াবান হউন। কারণ আপনি জানেন না তাদের মনের ভেতরে কী ঘটে চলেছে বা কী অনুভুতি বিরাজ করছে।”

সংবাদ শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

BengalTimesNews.com