বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

দক্ষিণ সুমরা থানা ফটকের সামনে পতিতালয়ের সন্ধান

index9-300x281সিলেট দক্ষিণ সুরমা থানা ফটকের ঠিক বিপরীতে মিনা মার্কেট। তার পেছনের বাসায় মিনি পতিতালয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে। ১৬ কক্ষের বিশাল এ বাসার তিন রুমে দেহ ব্যবসায়ী মনি ও জরিনা দীর্ঘদিন থেকে অসামাজিক কাজ করে আসছে।

আর তাদের পরিচালনা করছে বাসার কেয়ারটেকার এক সময়কার পতিতা সাবিনার মা, আম্বিয়া বেগম।

এমন দুঃসাহস নিয়ে থানা পুলিশের নাকের ডগায় কিভাবে গড়ে উঠে মিনি পতিতালয়? রাস্তার উপর সরকারি জায়গায় অবৈধ চায়ের দোকান-ই বা কার শেল্টারে বসানো হয়েছে। এসব প্রশ্ন এলাকাবাসীর।

বিগত বছর দু-এক আগে ওই বাসায় এক তরুণীকে আটকিয়ে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হতো। অবৈধ কাজ করতে না চাইলে তাকে আটক রেখে এক দম্পত্তি শারীরিক ভাবে নির্যাতন চালায়। এমন অভিযোগে তৎকালীন ওসির নির্দেশে এস আই ফজলুর (কালা ফজলু) নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই বাসা থেকে তরুণীকে উদ্ধার করে।

দেহ ব্যবসায় বাধ্য করায় দম্পতিকে আটক করে পুলিশ কারাগারে পাঠায়। এরপর থেকে অসামাজিক কাজ এ বাসায় বন্ধ থাকলেও ফের চালু করে আম্বিয়া বেগম।

কে এই আম্বিয়া বেগম?
মোটাসোটা মধ্যম বয়সী মহিলা আম্বিয়া বেগম। তবে সাবিনার মা নামে অধিক পরিচিত। সে তার বাড়ী সুনামগঞ্জ বলে পরিচয় দেয়। মূলত বাড়ী কিশোরগঞ্জে।
পালিত মেয়ে ও নাতী নিয়ে এ বাসায় দীর্ঘদিন থেকে সে থাকে। পুরাতন বসবাসকারী হওয়ায় সে এখন এ বাসার কেয়ারটেকার।

অভিযোগ আছে, বাসার মালিক হাজী খালিক মিয়া ও থানার ওসিকে ম্যানেজ করে গড়ে তোলেছে অবৈধ ব্যবসার স্বর্গরাজ্য। আর এমনটা না হলে থানা পুলিশের সামনে কেমন চলে রাস্তার উপর গড়ে তোলা অবৈধ চায়ের দোকান ও বাসার ভেতর দেহ ব্যবসা।
খদ্দর ধরতে মূলত গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকে চায়ের দোকান। সেই সাথে সন্ধ্যা থেকে জরিনা খদ্দরদের জন্য থানা ও মার্কেটের সামনে ঘোরাঘুরি করতে অনেকে দেখলেও শুধু দেখেনা পুলিশ।

বাসার বিবরণ:
মিনা মার্কেটের সামন দিয়ে বাসার ভেতরে ঢুকতে চোখে পরবে সাড়িবদ্ধভাবে প্রতিটা ১ লাইনের বাসা। পশ্চিমের লাইনে ৪ রুম। তার মধ্যে ২ রুমে ২ পরিবার থাকে। পাশের ২ রুম মেস। প্রথমটায় নর্থইস্ট হাসপাতালের ছাত্ররা। দ্বিতীয়টায় বাদিয়ার (সাপুড়িয়া) মেস।
উত্তর-দক্ষিণ সাঁড়ির লাইনে ৩ রুম। প্রথমটায় থানার পাশে নির্মাণধীন মৃত্তিকা গবেষনা ইন্সটিটিউট এর নির্মাণ শ্রমীকদের মেস। দ্বিতীয়টায় পতিতা মনির দেহ ব্যবাসর রুম।

মনির বাড়ী নেত্রকোনায়। মা ভিক্ষুক। অনেকে জানে সে নগরীর লালবাজারে এক আবাসিক হোটেলে ঝাড়–দারের কাজ করে। প্রকৃত পক্ষে সে ওই হোটেলের পারমেন্ট পতিতা। দেখতে সুন্দরী হওয়ায় দিনের বেলায় হোটেলে ও রাতে তার বাসায় চালায় দেহ ব্যবসা। সে চলাফেরা করে প্রাইভেট সিএনজি-অটোরিকসাতে করে। বাহির থেকে নতুন নতুন দেহপসারণী এনে বাসায় চালায় দেহ ব্যবসা। পাশের ৩য় রুম এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খালি ছিলো। এসব প্রতিটা রোমের ভাড়া ৫ হাজার টাকা করে।

পূর্ব-পশ্চিম এর সাড়িতে দুই লাইনে মোট ৯টা রুম আছে। তার মধ্যে সেমিপাকা তিন রুমে পরিবার ও ১ রুমে পতিতা জরিনা থাকে। সেও তার রুমে খদ্দর ও বাহির থেকে অন্য পতিতা নিয়ে এসে চালায় দেহ ব্যবসা। তারপাশে আরও ৫ রুম। প্রথমটায় কেয়ারটেকার আম্বিয়ার পালিত মেয়ে ও নাতি। দ্বিতীয়টায় সে নিজে বিনা ভাড়ায় থাকে। ৩য় ও ৪র্থ রুমে পরিবার এবং ৫ম রুমে ফেরীকরে মাছ বিক্রেতাদের মেস।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বাদিয়াদের মেসে বসে নিয়মিত বাঙলা মদের আসর। মেসে বাসকরা বাদিয়াদের রয়েছে নিজস্ব প্রাইভেট কার। ধারণা করা যায় প্রাইভেট কার ছিনতাই বা অপহরণ কাজে ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। আর এমনটা জানানদেয় তাদের বিলাশী পোশাক ও চলাফেরার জন্যে।

থানার সামনে এতসব লঙ্কাকান্ড চললেও পুলিশের না দেখার কারণ জানতে অনুসন্ধানে নামে আমাদের সিলেট। এক পর্যায় বেড়িয়েও আসে আসল সহস্য। থানার ওসির হাতে নিয়মিত যায় মাশুহারা। থানার কনেষ্টেবল হারিস মিনা মার্কেটের স্পট থেকে মাশুহারা তোলার দায়ীত্ব পালন করে যাচ্ছে। আর সে কারণে অন্যান্য পুলিশ এসব দেখলেও (ওসি) বড় কর্তার জন্য থানার অনেক অফিসার এসব এড়িয়ে চলেন।
থানা সূত্র বলে, অনেক অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য ওসির সাথে তাদের মনমালিন্য রয়েছে। কয়েকজন সৎ পুলিশ অফিসার এ প্রতিবেদককে নিজেরা এসবের জন্য অনুতপ্ত বলে জানান।

এদিকে সরকারে নির্দেশে সারাদেশে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ হলেও এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত মিনা মার্কেটের পিছনের বাসায় তথ্য সংগ্রহে কোনো পুলিশ যায়নি। থানা ফটকের সামনে এমন পতিতালয়ের জন্য সৎ অফিসারদের মাথাকাটা যায়, এমন অবস্থা। গায়ে কলঙ্ক লাগার ভয়ে কোনো অফিসার ওই বাসায় তথ্য সংগ্রহের কাজ কাধে নিতে চান না। এমনকি দু-একজন কে ইতিপূর্বে তথ্য সংগ্রহের দায়ীত্ব দিলেও তারা নানা অযুহাতে অনিহা প্রকাশ করেন।

এসব বিষয় নিয়ে কথা হয় দক্ষিণ সুরমার দায়ীত্বে থাকা সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) জেদান আল মুসার সাথে। তিনি এমন তথ্য দেয়ার জন্য এ প্রতিবেদককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অবৈধ চায়ের দোকান ও দেহ ব্যবসার স্থান গুড়িয়ে দেয়া হবে। আর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য যে, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা কমিটির ১৬ জুনের সভায় আলোচনায় আসে, দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি এস এম আতাউর রহমানের মদদে নানা অপরাধমূলক কার্যকলাপ ঘটছে। উপজেলা পরিষদের সভায় এ প্রস্তাব উত্থাপনের পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাগ্রহণ ও তাকে বদলি করার সিদ্ধান্ত তখন গৃহীত হয়।-পতিকি  ছবি

সর্বশেষ সংবাদ