মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

নরেন্দ্র মোদিকে নওয়াজের চিঠি

61091_31ভারতের সঙ্গে শীতল সম্পর্কের বরফ গলানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। এটাকে দু’দেশের শীতল সম্পর্কের বরফ গলানোর প্রচেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তানের অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে মোদিকে বন্ধুত্ব আর সহযোগিতার বার্তা দিয়ে অভিনন্দনমূলক এ চিঠি পাঠান নওয়াজ। ভারতে তখন জাঁকজমকভাবে পালিত হচ্ছে ৬৬তম প্রজাতন্ত্র দিবস। এতে প্রধান অতিথি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এ সফরকে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের নতুন সূচনা বলে পাকিস্তানের সংবাদপত্রগুলোতে সতর্ক মন্তব্য এসেছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ভারী গুলি বিনিময় হয়। এমন পরিস্থিতিতে মোদির প্রতি নওয়াজের বন্ধুত্বের আহ্বান গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের ৬৬তম প্রজাতন্ত্র দিবসে পাকিস্তান সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়ে দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গঠনের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন তিনি। সার্বভৌমত্বের সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাকিস্তান বিশ্বাস করে, উভয় সরকার দেশের উন্নয়ন, নাগরিকদের মঙ্গল এবং শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গঠনের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। নওয়াজ শরিফ চিঠির শেষে মোদির প্রতি সার্বিক শুভ কামনা এবং ভারতের জনগণের জন্য সুখ ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, গত বছরের শুরুতে নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ যোগ দেয়ার পর সম্ভাবনাময় এক সূচনা হয়েছিল। কিন্তু এ বছরের শুরুতে ভারত- পাকিস্তান সীমান্তে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ১লা জানুয়ারি সীমান্তে দুই পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। একইসঙ্গে শিয়ালকোট ‘ওয়ার্কিং বাউন্ডারি’র কাছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের দেখা যায়। এ ঘটনায় ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ আসে। এরপর থেকে নিয়ন্ত্রণ রেখায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনে নয়াদিল্লিকে দায়ী করে আসছে ইসলামাবাদ। কিন্তু, একে অপরকে দায়ী করার অব্যাহত রীতি আর আস্থার ঘাটতি, পারমাণবিক ক্ষমতাধর এ দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করেছে। এছাড়া, গত বছর ভারতে হুরিয়াত নেতাদের সঙ্গে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতের বৈঠক করতে দেখা যাওয়ার পর দ্বিপক্ষীয় উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হঠাৎ করেই বাতিল করে দেয় ভারত। সব মিলিয়ে, ২০১৪’র শুরুতে আশার আলো দেখা গেলেও আবারও দু’দেশের সম্পর্ক শীতল হতে শুরু করে। আর মোদিকে উষ্ণ বার্তাসহ নওয়াজের এ চিঠি সে শীতলতা কিছুটা হলেও স্বাভাবিক করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সংবাদ