বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

খাগড়াছড়িতে ধারণ করা ‘ইত্যাদি’ ৩০শে জানুয়ারি

61135_e1‘ইত্যাদি’র দেশপরিক্রমার ধারাবাহিকতায় আগামী পর্ব ধারণ করা হয়েছে পার্বত্য জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত খাগড়াছড়িতে। গত ১৯শে জানুয়ারি খাগড়াছড়ি শহরের প্রাণকেন্দ্রে চারদিকে পাহাড় বেষ্টিত চেঙ্গি গলফ অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাব মাঠে পাহাড়ের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে নির্মাণ করা চোখজুড়ানো আলোকিত মঞ্চের সামনে হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ধারণ করা হয় এ পর্ব।
বরাবরের মতো ‘ইত্যাদি’র এবারের পর্বেও রয়েছে কয়েকটি হৃদয়ছোঁয়া প্রতিবেদন। রয়েছে শিক্ষানুরাগের এক জীবন্ত প্রতীক রিকশাচালক মো. জাকের হোসেনের ওপর একটি শিক্ষণীয় প্রতিবেদন। এছাড়াও প্রায় ৩০ বছর ধরে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের বিস্তীর্ণ জায়গা যিনি সবুজ করে তুলেছেন চিরসবুজ বকুল ফুলের গাছে আর সুরভিত করেছেন বকুল ফুলের সুগন্ধে, সেই ভূমিহীন দিনমজুর সিদ্দিক গাজীর ওপর রয়েছে একটি মানবিক প্রতিবেদন। একজন সরকারি কর্মচারী মাগুরার এবিএম নজরুল ইসলামের কর্মনিষ্ঠার ওপর রয়েছে একটি উদ্বুদ্ধকরণ প্রতিবেদন। যিনি তার দীর্ঘ কর্মজীবনে কোন অজুহাতেই কখনও কোন নিয়ম ভঙ্গ করেননি। এছাড়াও পাহাড়ি-কন্যা রাঙামাটি জেলার সাজেক ভ্যালির ওপর রয়েছে একটি চমৎকার তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। প্রতিবেদনটির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে সাজেকের অনেক অজানা রূপ। এবারের ইত্যাদি’তে মূল গান রয়েছে একটি। বিভিন্ন জাতিসত্তার মধ্যে বন্ধন এবং আমাদের দেশের রূপবৈচিত্র্য বর্ণনা করে দেশাত্মবোধক এ গানটি গেয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। ‘ভালবাসার বাঁধন দিয়ে, মানুষগুলো বাঁধা, নানা জাতিসত্তা যেন, এক মালাতে গাঁথা…’ খ্যাতিমান গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের এই কথায় গানটিতে সুর দিয়েছেন আলী আকবর রূপু। গানটি নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি খাগড়াছড়ির বিভিন্ন নান্দনিক লোকেশন, সাজেক ভ্যালির বিভিন্ন স্পটে এবং মঞ্চে দর্শকদের সামনে ৩ দিন ধরে ধারণ করা হয়। গানটির সঙ্গে কোরিওগ্রাফি করেছেন স্থানীয় নৃত্যশিল্পীরা। এছাড়াও এবারের অনুষ্ঠানে রয়েছে একটি ব্যতিক্রমী নাচ। যাতে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন পাহাড়ি সমপ্রদায় এবং বাঙালি নৃত্যশিল্পীরা। চাকমা-ত্রিপুরা-মারমা ও বাংলা ভাষায় গাওয়া একটি দেশের গানের সঙ্গে এ নাচটিতে অংশ নিয়েছেন প্রায় তিন শতাধিক স্থানীয় নৃত্যশিল্পী। দর্শক পর্বে খাগড়াছড়িকে ঘিরে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে হাজার হাজার দর্শকের মাঝখান থেকে ৩ জন দর্শক নির্বাচন করা হয়। স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় জুম নৃত্য, বোতল নৃত্য ও বাঁশ নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্বে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়। যা ছিল বেশ উপভোগ্য। নিয়মিত পর্ব হিসেবে এবারও রয়েছে যথারীতি মামা-ভাগ্নে, নানী-নাতি ও চিঠিপত্র বিভাগ। রয়েছে বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু সরস অথচ তীক্ষ্ণ নাট্যাংশ। বরাবরের মতো এবারও ইত্যাদি’র শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন অনুষ্ঠানটির নিয়মিত শিল্প নির্দেশক মুকিমুল আনোয়ার মুকিম। এবারের ইত্যাদিতে উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেন নাজমুল হুদা বাচ্চু, মহিউদ্দিন বাহার, কে.এস ফিরোজ, সোলায়মান খোকা, শবনম পারভীন, কিসলু, কাজী আসাদ, আবদুল কাদের, আফজাল শরীফ, জিল্লুর রহমান, সুভাশিষ ভৌমিক, কামাল বায়েজিদ, মামুনুল হক টুটু, নিপু, রতন খান, বিনয় ভদ্র, আনোয়ার শাহী, প্রমা আজিজ, মতিউর রহমান, নজরুল ইসলাম, তারিক স্বপন, নিসা, জাহিদ চৌধুরী, ফরিদ, শামস, ফাহিম, মঞ্জুরুল আলমসহ আরও অনেকে। পরিচালকের সহকারী হিসেবে ছিলেন যথারীতি রানা ও মামুন। সব শ্রেণী পেশার মানুষের প্রিয় অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র এ পর্বটি একযোগে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে প্রচার হবে ৩০শে জানুয়ারি রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর। ‘ইত্যাদি’ রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। আর স্পন্সর করেছে যথারীতি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড

সর্বশেষ সংবাদ