বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

সিলেটে হোটেল ও রাস্তা ঘাটে চলছে পতিতাবৃত্তি -শেল্টারে নামধারী সাংবাদিক

5555আবুল হোসেন :: সিলেট শহরের আবাসিক হোটেল ও জজ্জ কোর্ট কালিঘাট এলাকায় চলে দেহ ব্যবসার শেল্টারে নামধারী সাংবাদিক । বিভিন্ন কলেজের ছাত্রীদের ফন্দি ফিকির করে কৌশলে এ ব্যবসার দিকে ঠেলে দিচ্ছে একটি চক্র। এছাড়া কিছুদিন আগে নগরীর দক্কীন সুরমা আক্তারের কলনীতে জুয়া্র ইস্পটে স্থানীয় যুবকরা হানাদেয় উক্ত জুয়ার ইস্পটে শেল্টার নামধারী সাংবাদিক শুধু তা্ই নয় । শতাধিক হোটেলের পাশাপাশি রেস্তোরা, বিউটি পার্লার,ম্যাসেজ পার্লার, ক্লাব, রেষ্ট হাউজে ও চলে আসছে এই ব্যবসা। অপ্রতিরোধ্য গতিতে চলা অবাধ যৌনাচারে সিফিলিস, গনোরিয়াসহ জীবন বিধ্বংসী এইচ আইভি এইডসের মত কঠিন ব্যাধির বিস্তার ঘটছে গোটা দেশ ব্যাপী। তবে সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো বিভিন্ন টেকনিক করে ইদার্নিং কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া ছাত্রী ও সমাজের এক শ্রেণীর গৃহবধুকে এই অসামাজিক কাজে জড়িত করছে। গৃহবধুরা শুধু জৈবিক চাহিদা মিটানোর জন্যই এই পথে পা রাখছে। টাকা-পয়সা তাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, একটি স্বার্থাম্বেসী মহল অল্প পুঁজিতে অধিক মুনাফার আশায় এই ব্যবসায় জড়িত। দেহ দানের মাধ্যমে পুরুষকে সেবা দানের এই ব্যবসা বন্ধ করা না হলে মৃত্যুঅনিবার্য ‘এইডস’। আর এর মত নীরব মরণ ব্যাধি দেশ ব্যাপী মহামারী আকারে ক্রমেই ছড়িয়ে পড়বে। নগরীর অনেক অভিজাত হোটেল সহ অভিজাত আবাসিক এলাকায় ও চলছে এই পতিতা ব্যবসা।
মহানগরীর বেশিরভাগ আবাসিক হোটেলে প্রতিদিন প্রায় শত,শত, ও অধিক খদ্দেরের সমাগম ঘটে। আর এদের যৌনানন্দ দেয়ার জন্য প্রায় হাজের তিনেক ললনা নিজেদেরকে বিলীয়ে দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যৌন ব্যবসায় লিপ্ত থাকা হোটেল গুলোর মাসিক আয় কয়েক লক্ক টাকা। যৌনকর্মীদের মতে আরোও বেশী। নগরীর অধিকাংশ বিউটি পার্লার ম্যাসেজ পার্লারে পরিণত হয়েছে। দেশী-বিদেশী সুন্দরী তরুণীদের দিয়ে এসব পার্লারে চালানো হয় ওরাল সেক্স ও ভ্যাজাইনাল সেক্স। অভিজাত এলাকার হোটেল,গেষ্ট হাউজ,রেষ্ট হাউজ, ক্লাব,বার ও ফ্ল্যাট-বাড়ীতে আপার লেবেলের লোকজন যাতায়াত করে। তবে সাধারণ হোটেল ও ফ্ল্যাট বাড়ীতে সর্বশ্রেণীর পেশার মানুষ যাতায়াত করে। ১৩ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণীরা দেহ দানের মাধ্যমে সেবা দান করে। তাদের ভোগ করতে ১৫ বছরের কিশোর হতে ৭০ বছরের বৃদ্ধ খদ্দর হিসেবে যাতায়াত করে। ফ্ল্যাট বাড়ী এবং হোটেল ভিত্তিক পতিতা ব্যবসায় ৩টি শব্দ বেশি ব্যবহৃত হয় ভাবী, ইনটেক ও এ্যাংগেজ। ২৫ হতে ৩০ বছরের বয়সী বিবাহিতা পতিতাকে বলা হয় ভাবী, সঙ্গম করা হয়নি এমন পতিতাকে বলা হয় ইনটেক ও কাঙখিত পতিতা সঙ্গমে লিপ্ত থাকাবস্থায় উহাকে বলা হয় এ্যাংগেজ। প্রতি রাতে প্রায় ৫০-১০০ ভাসমান পতিতা বিভিন্ন স্পটে খদ্দর ধরার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিভিন্ন বস্তি ছাড়াও তরুণীরা কর্মস্থলে যোগ দেয়ার নামে বোরকা, হাত ও পা মোজা পরে প্রতিদিন সকাল হতে সন্ধার পর থেকে মধ্য রাত জজ্জ কোর্ট এলাকায় বেশ্যাবৃত্তিতে লিপ্ত হয়। এই হোটেল ও স্পট গুলোতে দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক গ্রহণ করা হয়। মাদকের ব্যবহার হোটেলেই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ বিশেষতঃ মদ। হোটেলের আসরে বাংলা মদ থেকে শুরু করে দামী গ্রীন লেবেল, হুসকি, রয়াল সেলুট ও জীন ভোদকাসহ সবই চলে। সাধারণ মানুষের চোখে ফাঁকি দিতে বিভিন্ন হোটেল থেকে কোক,পেপসী ও আরসি কোলার খালি বোতলে মদ কিনে নিয়ে যায় খদ্দররা। পতিতার ধরন বুঝে টাকার পরিমান উঠা- নামা করে ৩০০ টাকা হতে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। তবে এ সিংহ ভাগই চলে যায় দালাল আর মাস্তানদের হাতে। যৌনকর্মীরা তিনটি শ্রেনীতে বিভক্ত : ভাসমান বা সড়ক কেন্দ্রিক, হোটেল ভিত্তিক এবং আবাসিক। শ্রেনী ভেদে এদের আসার কারণ ভিন্ন ভিন্ন।
ভাসমান যৌনকর্মীদের এ পেশায় আসার কারণ মুলত: আভ্যন্তরিণ পাচার। দালাল কর্তৃক চাকুরী কিংবা ভাল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এদের শহরে এনে দালালের হাতে তুলে দেয়া হয়। দালাল নিজে কিংবা খদ্দের কর্তৃক জোরপুর্বক প্রথমে ধর্ষন, পরে যৌন পেশায় নিয়োজিত করা হয়। অনেকে আবার চাকুরীর সন্ধানে এসে বাস স্টেশনে দালালের খপ্পরে পড়ে প্রথমে ধর্ষিত হয়, পরে জোর পুর্বক এ পেশায় নিয়োজিত হয়। কেউ কেউ পারিবারিক কলহ বিশেষ করে স্বামী বা শশুরবাড়ির নির্যাতনের শিকার হয়ে গৃহ ত্যাগ করার পর দালালের খপ্পরে পড়ে। এ ক্ষেত্রে একটি অনুল্লেখযোগ্য অংশ দারিদ্রের কারণে স্বেচ্ছায় এ পেশায় জড়িয়ে পরে।
হোটেল ভিত্তিক যৌনকর্মীদের অধিকাংশই পাচারের শিকার। তবে, বেশ কিছু স্কুল-কলেজের ছাত্রী,বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী বাড়তি আয়ের জন্য খন্ডকালিন যৌনপেশায় নিয়োজিত হয়। প্রবাসির স্ত্রীরা এ পেশায় আসে মুলত: যৌন চাহিদা মেটাতে। আবাসিক যৌনকর্মীরা মুলত: দালাল কর্তৃক পরিচালিত।
উক্ত বিষয়ে সিলেট কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল আহমদের মোটো ফোনে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ করেননি, ।

সর্বশেষ সংবাদ