বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

সুয়েজ খাল কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ?

file (10)ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে- রোম ওয়াজ নট বিল্ট ইন আ ডে। এই প্রবাদবাক্যটি মানবসভ্যতার ক্ষেত্রে অক্ষরে অক্ষরে খাটে। মানবসভ্যতা একদিনে আজকের অবস্থানে আসেনি। কালের পরিক্রমায় বিভিন্ন দ্বন্দ্ব-সংঘাত, ঘাত-প্রতিঘাত, সংকরণ-বিজোযন, উত্থান-পতন, উদ্ভাবন-ধ্বংসের পথ পাড়ি দিয়েই আজকের এই অবস্থানে মানুষ। এবং এমন একদিন আসবে, যেদিন আজকের সময়টাও ইতিহাসে পাঠ্যের বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়াবে। এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে, যাবে এই সভ্যতা। মানবসমাজে যেমন জাতিয় রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে, একইভাবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাবও কোনো অংশে কম নয়। আর এই আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে প্রভাবিত করে যেসকল বিষয় বা জায়গা, তারই একটা হলো সুয়েজ খাল।

সুয়েজ খালের প্রকৃত নাম- হে সুয়েজ ক্যানেল। আরবীতে একে ডাকা হয়- কা’নাত আল-সুয়াইস। এটি মিশরের একটি কৃত্রিম খাল, যা মেডিটেরিয়ান সাগর আর লোহিত সাগরকে সংযুক্ত করেছে। দীর্ঘ দশবছর খণনের পর ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে এটি উন্মুক্ত করা হয়। এই একটা খালের কারণে ইউরোপ এবং ভারতের মাঝের সমুদ্র পথের দূরত্ব কমে গেছে প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার (৪ হাজার ৩শ’ মাইল)। এই খাল খণনের আগে ইউরোপ থেকে এশিয়া, তথা দক্ষিণ এশিয়া আসতে জাহাজগুলোকে আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে আসতে হতো। এক হিসাবে জানা যায়, ২০১২ সালেই এই খাল দিয়ে ১৭ হাজার ২শ’ ২৫টি জাহাজ যাতায়াত করেছে, অর্থাৎ দিনে গড়ে ৪৭টি।

fileখালটি যখন খণন করা হয়, তখন এর দৈর্ঘ্য ছিলো ১শ’ ৬৪ কিলোমিটার (১শ’ ২ মাইল) এবং প্রস্থ ছিলো ৮ মিটার (২৬ ফুট)। এরপর কয়েকবার সংস্কারের পর বর্তমানে খালটির দৈর্ঘ্য ১শ’ ৯৩ দশমিক ৩ মিটার (১শ’ ২০ দশমিক ১১ মাইল) এবং প্রস্থ ২শ’ ৫ মিটার (৬শ’ ৭৩ ফুট)। খালটি মিশরের সুয়েজ ক্যানেল অথোরিটির (এসসিএ) মালিকানাধীন এবং এই প্রতিষ্ঠানই এর রক্ষণাবেক্ষণ করে।

প্রাচীন পূর্ব-পশ্চিম খালটি ব্যবহৃত হতো নীল নদ থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত ভ্রমণে। ধারণা করা হয়, ফারাও সম্রাট সেনুস্রেট দ্বিতীয় বা রামেসেসের আমলে একটি ছোট খাল খণন করা হয়েছিলো। অপর একটি খালও খণন করেছিলো নেকো দ্বিতীয়। কিন্তু সর্বপ্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ খাল খণন করেন দারিউস।

মিশরের দ্বাদশ রাজবংশেল অপর এক ফারাও সম্রাট সেসোসট্রিসও (সেনুস্রেট তৃতীয়) নীল নদ এবং লোহিত সাগরকে সংযুক্ত করতে একটি খাল খণন করার চেষ্টা করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এটা খ্রিষ্টপূর্ব ১৮৯৭ অব্দ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ১৮৩৯ অব্দের মধ্যবর্তী সময়ের কথা। বিখ্যাত দার্শনিক অ্যারিস্টটলও তার রচনায় লিখে গেছেন, সে আমলের এক রাজা একটা খাল খণনের চেষ্টা করেছিলেন।

(চলবে)

সূত্র:

  • এনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকা
  • আ সি চেঞ্জ: এক্সোটিকস ইন দ্য ইস্টার্ন মেডিটেরিয়ান সি – গালির, বি.এস, জেনেটোস
  • আ হিস্টোরি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি: আর্টফুল মেথডস – গ্যারিসন, এরভান জি.
  • পার্টিং দ্য ডেজার্ট: দ্য ক্রিয়শন অব সুয়েজ ক্যানেল – কারাবেল, জাকারি
সংবাদ শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

BengalTimesNews.com