রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

সিলেটে জামায়াত শিবির মুক্ত পীরমহল্লা ও এক কিংবদন্তী আফতাব ঃ কিছু কথা

aaaএম. কামরুল আই রাসেল ঃ কিংবদন্তী সিংহপুরুষ আফতাব, আফতাব মানে উজ্জল রবি বা দিনের আলোময় সূর্য। নামের অর্থের সাথে কাজের পুরোপুরি মিলও রয়েছে তার। তাই বলে এখানে সকল আফতাব নামের কথা বলছি না, বলছি সেই আফতাবের কথা, যিনি সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সিলেট সিটির ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৭নং ওয়ার্ডের পশ্চিম পীরমহল্লার কৃতিসন্তান আফতাব। সিলেট নগরীর ৭নং ওয়ার্ড ও তৎপার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ন এলাকা যখন স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-শিবিরের নিঃসীম আঁধারে নিমজ্জিত। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস ছিল না কারো। ঠিক সেই সময়ে ওই এলাকায় উদিত হন স্বাধীনতা স্ব-পক্ষের উজ্জল রবি এক নামে আফতাব। আফতাব হোসেন খান ছাত্রলীগের নেতা ও কর্মী হওয়ার সময় থেকেই তার মনে প্রত্যয় জন্মে এলাকাবাসীকে জামায়াত-শিবিরের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করে আলোর পথে নিয়ে আসার।
আর তাই তা’ করতে পেরেছেন একমাত্র তিনিই। স্বাধীনতা স্ব-পক্ষের প্রজন্মদের ক্রমে একীভুত ও সংগঠিত করে তিনি মাঠে নামেন জামায়াত-শিবির মুক্তি আন্দোলনে। তখনকার সময়ে নগরীর হাউজিং এস্টেট, সুবিদবাজার, বনকলাপাড়া, পীর মহল্লা, বাদামবাগিচা,লন্ডনীরোড, পাঠানটুলা প্রভৃতি এলাকায় ছিল জামায়াত নেতা সায়েফ-হারুণের একচ্ছত্র আধিপত্য, উচ্ছেদ ও জবরদখল বানিজ্য। বিশেষ করে বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে জামায়াত-শিবিরের নিপীড়নে এলাকার অনেককে বাড়ি-ঘর ছাড়া হতে হয়েছিল।
জামায়াত-শিবিরের এ রাজত্ব ও আধিপত্যকে চুরমার করে দিতে রাজপথে নামেন আফতাব ও তার অনুসারী প্রজন্মরা। একে এক আধিপত্য খতম হতে থাকে জামায়াত নেতা সায়েফ-হারুণদের। লেজগুটে এলাকা ত্যাগ করতে থাকেন জামায়াত নির্ভর বিএনপি’র নেতা ও কর্মীরা। আবার অনেকে ভ্রান্তপথ ছেড়ে যোগদান করেন স্বাধীনতা স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগে। জামায়াত-শিবিরের শেষ ভরসা এলাকার মসজিদ-মাদ্রাসা এবং স্কুলও মুক্ত করেন জামায়াতের কবল ও মরন ছোবল থেকে।
একে-একে প্রতিটি মসজিদ-মাদ্রাসা ও স্কুলে নিয়োগ পেতে থাকেন স্বাধীনতা স্বপক্ষের আলেম ওলামা ও শিক্ষকগন। আর এক্ষেত্রে স্বাধীনতা স্বপক্ষের অন্যান্য সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরও সহযোগিতা দেন ও নেন তিনি। সম্ভবত সেই ২০০৯ সালের কথা, এলাকার প্রভাবশালী জামায়াত নেতা ডা. সায়েফ তার অনুগত বিপথগামী যুবদের নিয়ে যখন মরন কামড় দেন এলাকার স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষদের উপর। হামলে পড়েন অনেকের বাড়িঘরে। তখনই সিংহের মত গর্জে ওঠেন কিংবদন্তী আফতাব। আফতাবের প্রতিরোধের মূখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় সায়েফের দূর্ধর্ষ বাহিনী। শান্তি ও স্বস্তি ফিরে আসে এলাকার জনমনে।
শুধু জামায়াত মুক্তকরনে আফতাবের ভ’মিকা সীমাবদ্ধ ছিলনা এবং এখনো নেই। ন্যায়ের পক্ষে আপোষহীন আফতাব যেমন দয়াময় তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্দে কঠোর অবস্থানে যেতেও পিছ পা হন না তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে কথিত দানবীর রাগীব আলী নামের ‘দানবের’ প্রতারনার শিকার হাজারো পরিবারের পাশে অকুন্ঠচিত্তে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। রাগীব আলী যখন বিতাড়িত হন তারাপুরের অবৈধ সাম্রাজ্য থেকে, তখনই প্রশ্ন আসে রাগীব আলীর প্রতারনার শিকার হাজারো পরিবারের উচ্ছেদের।
যুগ যুগ ধরে ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত বসবাস করে আসা হাজার হাজার পবিারের মাথায় যখন ছায়া নেই, তখনই আবার গর্জে ওঠেন দিনের সূর্য আফতাব। তার আপোষহীন ভূমিকায় খোলা আকাশের নীচে অবস্থান থেকে মুক্তি পান তারাপুর মৌজার রাগীব কর্তৃক প্রতারিত হাজারো পরিবার। তার আপোসহীন ভুমিকায় যেমন উপকৃত তার ওয়ার্ডের সাধারন মানুষ, তেমনি আশপাশ এলাকার লোকজনও তার বিকিরণ থেকে বঞ্চিত হন নি। তাই আফতাব শুধু নিজ এলাকায় কিংবদন্তী নন, তিনি পুরো সিলেট নগরীর কিংবদন্তী সিংহপুরুষ।
সংবাদ শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

BengalTimesNews.com