মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

বান্দরবানের আলীকদমে হারিয়ে যাচ্ছে কোমর তাঁত শিল্প

Ak-Tanchaynga-tat-news.-pc-300x198হাসান মাহমুদ, আলীকদমঃ-নৈশগ্রীক সৌন্দর্যের লীলাভুমি, পর্বতরাজি পরিবেষ্টিত পার্বত্য জনপদ বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় দুর্গম পাহাড়ি জনপদের নারীদের সেকালের সেই স্বর্ণ যুগের পাহাড়ি তাঁত শিল্প আর আগের মত নেই। তাদের সেই ঐতিহ্যবাহী এক মাত্র কোমর তাঁত শিল্প এখন বিলুপ্ত প্রায়। সরকারি উদাসিনতা এবং বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এখন তা চলছে নামে মাত্র। বাপ-দাদাদের সেই পুরানো পেষাকে আঁকড়ে ধরে আছে নামমাত্র ক’জন তাঁত শিল্পী। সরেজমিনে আলীকদম ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের রোয়াম্ভু বুলু কারবারী পাড়া গিয়ে দেখা যায়, এক সময় যারা সম্পূর্ণ তাঁত নির্ভর ছিল, আজ তারা প্রায় সকলেই অন্যান্য পেষায় জড়িয়ে পড়েছেন। এ গ্রামে গ্রায় এক’শ টি পরিবার রয়েছে যার প্রাতিটি পরিবারই এক সময় তাঁত নির্ভর ছিল। কিন্তু বর্তমানে কাঁচামালের সংকট ও প্রতিকুল বাজার মূল্যের সাথে প্রতিযোগীতা দিয়ে টিকে থাকতে না পেরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে তারা। গ্রামের বাপ-দাদার ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা গান্ধী তঞ্চঙ্গা সহ আরো বেশ কয়েক জন অভিযোগের শুরে বলেন, আমাদের তৈরীকৃত চাদর, বেডশীট, গামছা, পাহাড়ী নারীদের থামি ওড়না সহ অন্যান্য তাঁত বস্ত্রের এক সময় বহুল প্রচলিত ছিলো। কিন্তু সরকারের উদাশীনতার কারনে আজ তা বিলুপ্ত হতে চলেছে। সরকারী তুলা উন্নয়ন বোর্ড রয়েছে কিন্তু তুলা উন্নয়ন হচ্ছেনা। তুলা চাষে সরকারের কোন প্রকার ভুমিকা নেই, কর্মকর্তারা বসে বসেই বেতন নিচ্ছেন। সরকারী বা বেসরকারী উদ্ধ্যোক্তাদের এসব বিষয় নিয়ে কোন প্রকার মাথা ব্যথা নেই, তাঁতীদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা নেই। এসব কারণে আমরা তাঁত শিল্পের প্রষার ঘটাতে পারিনা। এখন শুধু আমরা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য অন্যান্য কাজের ফাঁকে ফাঁকে কিছু কিছু কাজ করে থাকি। এ বিষয়ে কথা বলেছিলাম আলীকদম উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিরিন আক্তার রোকসানার সাথে। তিনি জানান, ক্ষুদ্র তাঁত শিল্প পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি লোক ঐতিহ্য। এগুলোকে আরো বেশী সহযোগিতা করা প্রয়োজন। সরকারী-বেসরকারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা পেলে এই তাঁত শিল্প পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমি আশা করি। তিনি ব্যাংক ও সরকারী কর্মকর্তাদের বেসরকারী উদ্ধ্যোক্তাদের প্রতিও তাঁত শিল্পগুলোর দিকে আরো বেশী সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে একই এলাকার দীপু তঞ্চঙ্গ্যা জানান, তঞ্চঙ্গ্যা হল পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী। এজনগোষ্ঠীর পুরুষরা বাহিরের কাজ করে। আর নারীরা পুরুষদের পাশাপাশি গৃহস্থলির সকল কাজের পাশাপাশি তাঁতীর কাজ করে পরিবারকে সমৃদ্ধ করে। কিন্তু পুরুষদের যে আয় তাতে সংসার চালিয়ে তাঁতের যোগান দেয়া কষ্টসাধ্য ব্যপার। এতে করে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেক পরিবারই এ পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পরছে। তাই আমি মনে করি, সরকারী ও বেসরকারী উদ্ধ্যোক্তাদের এবিষয়ে সুনজর দেয়া উচিৎ। নৈশগ্রীগক সৌন্দর্যের লীলাভুমি, পর্বতরাজি পরিবেষ্টিত পার্বত্য জনপদের এ উপজেলা সম্ভাবনাময় পর্যটন নগরীর হিসেবে স্বীকৃতি পেলে এ উপজেলায় পর্যটকদের আগমনের ফলে তাঁত শিল্পের আওতায় উৎপাদিত তাঁতবস্ত্র দেশী ও বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। এবং এখাত থেকে সরকারের রাজস্ব ও বৃদ্ধি পাবে।

সংবাদ শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

BengalTimesNews.com