সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

আবার সময় চাইলেন আপনের মালিক দিলদার

image-34837আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে জব্দ করা সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণ ও ৪২৭ গ্রাম হীরার ব্যাখ্যা দিতে আবার সময় চেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম।

মঙ্গলবার শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি সময় আবেদন করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কাকরাইলের তথ্য গোয়েন্দা ও শুল্ক অধিদপ্তরে আসেন দিলদার। তার সঙ্গে আসেন দুই ভাই গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদ, তিন আইনজীবী তাইফুল সিরাজ, আখতার শাহাদ জামান, মো. নাঈম উদ্দিন লিংকন।

বেলা তিনটায় তারা গোয়েন্দা কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান। বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয় জানতে চাইলে দিলদারের আইনজীবী তাইফুল সিরাজ বলেন, ‘আমরা বেশ কিছু কাগজপত্র শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে জমা দিয়েছি। তারা আরও কিছু কাগজপত্র চেয়েছেন। আমরা সেসব কাগজপত্র জমা দেয়ার জন্য সময় চেয়েছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সময় মঞ্জুর হয়ে কি না সে বিষয় এখনই কিছু বলতে পারছি না। এটি পরে জানা যাবে।’

কী কী কাগজপত্র জমা দিয়েছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তাইফুল সিরাজ বলেন, ‘অনেক কাগজই দিয়েছি। নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।’

এর আগে এসব স্বর্ণের ব্যাখ্যা দিতে দিলদার আহমেদকে তিন দফা তলব করে শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়।

সম্প্রতি আপন জুয়েলার্স আলোচনায় এসেছে এর মালিক দিলদারের ছেলে সাফাত আহমেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর। গত ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় করা একটি মামলায় দুই তরুণী অভিযোগ করেন, বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে তাদের ধর্ষণ করেন সাফাত ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ। এ ঘটনায় এই দুই জনসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করে বনানী থানায় একটি মামলা করেন ধর্ষণের শিকার এক তরুণী। মামলার অন্য তিন আাসামি হলেন সাফাতের বন্ধু সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহতম আলী। আসামিদের সবাইকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এরপর আপনের মালিকের সম্পদ অনুসন্ধানে গত ১৪ ও ১৫ মে রাজধানীতে প্রতিষ্ঠানটির পাঁচটি বিক্রয়কেন্দ্রে অভিযান চালায় শুল্ক গোয়েন্দারা। এ সময় জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ও হীরা। আপনের দাবি, এসব স্বর্ণ ও হীরার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে তাদের।

গত ১৭ মে শুল্ক গোয়েন্দাদের তলবে হাজির হয়ে আপনের মালিক দিলদার আহমেদ সব নথিপত্র জমা দিতে সময় চান। এরপর তাকে এক সপ্তাহ সময় দেয় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। নির্ধারিত দিন ২৩ মে আপনের মালিকপক্ষ ব্যাখ্যা দিতে আসেনি শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে। কিন্তু সেদিন স্বপ্রণোদিত হয়েই আপনকে দুই দিনের সময় দেয় শুল্ক গোয়েন্দারা।

এরপর গত বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও সেদিন হাজির হননি আপন জুয়েলার্সের মালিকপক্ষ। এরপর এসব স্বর্ণের ব্যাখা দেয়ার জন্য আজ আবার তাদের তলব করা হয়।

সংবাদ শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

BengalTimesNews.com