বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

ঈদের পোশাকে বাহারি রং

oooooপ্রকৃতিকে ধরা হয় শিল্পের মূল উৎস হিসেবে। একজন শিল্পী প্রকৃতির সঙ্গে নিজের সত্তার মিশেলে তৈরি করেন এক একটি শিল্পকর্ম। ঠিক তেমনই ফ্যাশনের ক্ষেত্রেও একজন ডিজাইনার পোশাকে নিজের নকশা ফুটিয়ে তোলার সময় প্রথমেই প্রাধান্য দেন আবহাওয়াকে। ঋতুতে ঋতুতে তাই নতুন ট্রেন্ড, নতুন রঙ। পরিবর্তন আসে কাপড়ে, প্যাটার্নে। ফ্যাশন সচেতনদের নজর দেখা যায় আন্তর্জাতিক আঙিনায়। ক্রেতা সন্তুষ্টি মেটাতে দেশীয় ফ্যাশনে তাই দেশি মোটিফের সঙ্গে চল এখন আন্তর্জাতিক মোটিফ, প্যাটার্ন, কাটিংয়ের। তবে উৎসবের কথা মাথায় রেখে গতানুগতিক পরিবর্তনগুলোর বাইরে নতুনত্ব তো থাকবেই। এবারের ঈদে শাড়িতে দেখা যাবে বৈচিত্র। প্রতিটি ফ্যাশন হাউসই তাদের শাড়ির কালেকশন তৈরিতে দেখিয়েছে মুন্সিয়ানা। বিশেষ করে ভ্যালু অ্যাডিশনে রয়েছে বিশদ পরিবর্তন। আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে ডিজাইনাররা হালকা এবং ভারি নকশার রঙিন কালেকশন তৈরি করেছেন। ফ্যাশনের অংশ হিসেবে লম্বা কামিজের চলটা এবারও থাকছে। তবে ঈদে তরুণীরা ফ্যাশনের ক্ষেত্রে সবসময় একটু ভিন্ন কিছু আশা করেন। আর তাই পোশাকের রঙ এবং কাটিংয়ে বিস্তর পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন ডিজাইনাররা। ঈদের পোশাক হিসেবে সালোয়ার-কামিজের একটি আলাদা চাহিদা রয়েছে। আর সময়ের আবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রঙে-ঢঙে বিভিন্ন পরিবর্তন এবং পাশাপাশি আধুনিক অন্য অনেক পোশাক আসার পরও সালোয়ার-কামিজের চলটা মোটেও হারিয়ে যায়নি। বরং তা ঘুরেফিরে বিভিন্ন স্টাইলে ও আঙ্গিকে সবসময়ই ফিরে এসেছে নতুন নতুন আঙ্গিকে। আর তাই ঈদের মতো বড় উৎসবগুলোতে অন্তত একটি সালোয়ার-কামিজ যেন সবার চাই-ই চাই। তা ছাড়া আজকাল ঈদ উপলক্ষে তরুণীরা শুধু একটি পোশাকেই সন্তুষ্ট নয়। প্রায় প্রত্যেকেই নিজেদের পছন্দের তালিকায় রাখছেন একাধিক পোশাক। তাই ঈদে শাড়ি বা অন্য যে পোশাকই কিনছেন না কেন, পাশাপাশি একটি সালোয়ার-কামিজ কিন্তু থাকছেই পছন্দের তালিকায়। সে জন্যই প্রতি ঈদে সালোয়ার-কামিজের এ বিশাল চাহিদার কথা মাথায় রেখে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো বাজারে নিয়ে আসে বিভিন্ন ডিজাইন, স্টাইল ও ট্রেন্ডের বাহারি সব সালোয়ার-কামিজ। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা গেল ফ্যাশন হাউস অঞ্জন’স, নবরূপা, আড়ং, রঙ বাংলাদেশ, বিশ্ব রঙ, বাংলার মেলা, প্রবর্তনা, অরণ্য, নিপুণ, যাত্রা, যাত্রী, বিবিয়ানা, দেশাল, কে-কদ্ধ্যাফট, অন্য মেলাসহ প্রায় সবাই বরাবরের মতো এবারও বাহারি সব লম্বা কামিজে ঈদ ফ্যাশনের কালেকশন তৈরি করেছে। অঞ্জন’সের ফ্যাশন ডিজাইনার শাহীন বলেন, এবারের ঈদকে কেন্দ্র করে আমরা লং এবং সেমি লং দুই ধরনের কামিজই বাজারে এনেছি। তবে এবার লেন্থের পাশাপাশি কামিজের গেটাপেও বেশ পরিবর্তন এসেছে। স্লিভগুলো অন্যবারের চেয়ে আলাদা করা হয়েছে এবং স্লিভের ডিজাইনেও অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ ছাড়া বরাবরের মতো এবারও ভিন্নতা দেখা যাবে কামিজের নেক লাইনে। সব মিলিয়ে আধুনিক ট্রেন্ড এবং স্টাইলেই ডিজাইন করা হয়েছে এবারের পোশাকগুলো। আর এই পোশাকগুলো খুব বেশি ঢিলে কিংবা একেবারে চাপাও নয়। ফলে পরার পর পোশাকগুলো এমনিতেই সুন্দরভাবে মানিয়ে যাবে আজকালকার তরুণীদের। এবার ঈদে সব কালেকশনে রঙ, ডিজাইন, কাটিং প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে কিছুটা ভিন্নতা ও আধুনিকতার ছোঁয়া। বর্ষার আবহাওয়ায় গরম ও বৃষ্টি উভয় দিক বিবেচনায় রেখেই পোশাকগুলো তৈরি করা হয়েছে। সুতির পাশাপাশি সিনথেটিক কাপড়গুলোও ভালোই প্রাধান্য পেয়েছে জমকালো পোশাকে। তাই নরমাল সুতি, অ্যান্ডি সুতি, তাঁতের সুতি ও লিলেন সুতি ছাড়াও এবার ঈদ-পোশাকে ব্যাবহার করা হয়েছে সিল্ক, অ্যান্ডি সিল্ক, হালকা সিল্ক ও মসলিন কাপড়গুলো। কালারের ক্ষেত্রে হালকা এবং উজ্জ্বল উভয় রঙই সমানভাবে স্থান পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে রঙ বাংলাদেশের কর্ণধার সৈমিক দাশ বলেন, ‘এবার ঈদ যেহেতু গরমের সময় তাই গরমকে প্রাধান্য দিয়ে হালকা বিভিন্ন রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। আর রঙ বাংলাদেশ এবার মূলত চারটি থিমের সমন্বয়ে পোশাকের কালেকশন তৈরি করেছে। যার মধ্যে প্রাধান্য পেয়েছে ঐতিহ্যবাহী গহনা এবং কাঠ খোদাই মোটিফ। তিনি আরও বলেন, যেহেতু ঈদ তাই কিছু জমকালো পোশাকও রয়েছে রঙ বাংলাদেশের কালেকশনে। ঈদের সময় যেহেতু ক্রেতা চাহিদা অনেক বেশি এবং আমাদের দেশে কালারটাকে ট্রেন্ড হিসেবে খুব কম মানুষই কাউন্ট করে, তাই আমাদের আসলে অনেকগুলো রঙ নিয়েই কাজ করতে হয়। তাছাড়া এবার ফ্যাশন হাউসগুলোর পোশাক কালেকশনে দেখা যায় রঙের বিভিন্ন শেডের ব্যবহার। এ ক্ষেত্রে বলা যায়, কালার কম্বিনেশনগুলো ক্রেতাদের নজর কাড়বে। লং কামিজগুলোয় প্রিন্টের ডিজাইন সবসময়ই দেখতে একটু বেশি ভালো লাগে। তাছাড়া ঘুরেফিরে যেহেতু লম্বা কামিজ আবারও ফ্যাশনের জায়গাটা দখল করে নিয়েছে এবং আস্তে আস্তে স্থায়ী হয়ে উঠছে, তাই এসব বিষয় মাথায় রেখে প্রায় সবগুলো দেশীয় হাউসই এবার বাহারি সব প্রিন্টের ডিজাইনে নিয়ে এসেছে অনেক পোশাক। এসবের মধ্যে রয়েছে বল্গক প্রিন্ট, স্ক্রিন প্রিন্ট, অ্যাপিল্গক প্রিন্ট ইত্যাদি। এ ছাড়া এমব্রয়ডারি করা বেশকিছু চমৎকার কামিজ বাজারে এনেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। নকশায় ব্যবহার করা হয়েছে পার্ল, চুমকি আর আয়না। বর্তমান লম্বা কামিজের সঙ্গে রাখা হয়েছে লেডিস প্যান্ট, পালাজ্জো, সালোয়ার। ওড়নাগুলো একটু বড় রাখা হয়েছে, একটু লেন্থ বেড়ে একটু চওড়া হয়েছে। কিন্তু ওড়নার ক্ষেত্রে বৈপরীত্য আনতে চাইলে নিজের ইচ্ছামতো মানানসই ওড়না বাজার ঘুরে কিনে নেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে রঙ মিলিয়ে শিফন ওড়নাটাই কেনা যেতে পারে। কারণ ফ্যাশনে এখন শিফনটাই একটু বেশি চলছে। এর সঙ্গে কিছু টাইডাই ওড়নাও নেওয়া যেতে পারে।

Chat Conversation End
Type a message…
 

সর্বশেষ সংবাদ