বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

কমলগঞ্জে পতিতা পল্লী থেকে পালিয়ে এসে এক কিশোরী রক্ষা

images (1)কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার ইউনিয়নের একটি পতিতা পল্লী থেকে পালিয়ে এসে রক্ষা পেলো আদমপুর ইউনিয়নের এক কিশোরী। প্রায় বছর খানেক আগে রাস্তা থেকে অপহরণ করে পতনউষারের টিলাগড় গ্রামের একটি বাড়িতে আটকিয়ে রেখে তাকে অসামাজিক কাজে (দেহ ব্যবসায়) নিয়োজিত করা হয়েছিল। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টায় কিশোরী পালিয়ে এসে একই ইউনিয়নের রথেরটিলা গ্রামের রফিক মিয়র বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

পতনউষার ও আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সূত্রে জানা যায়, আদমপুর ইউনিয়নের বনগাঁও নঈনারপার গ্রামের মৃত সোহরাব মিয়ার মেয়ে মনোয়ারা বেগম (১৩) মা বাবা না থাকায় বড় ভাইদের যন্ত্রনা সইতে না পেরে বিগত বছর জুলাই মাসে রাগ করে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল। পথিমধ্য থেকে দুই ব্যক্তি কিশোরী মনোয়ারা বেগমকে অপহরণ করে নিয়ে পতনউষার ইউনিয়নের টিলাগড় গ্রামের আজিদ আলীর বাড়িতে আটকিয়ে রেখে অসামাজিক কাজে (দেহ ব্যবসায়) নিয়োজিত করা হয়েছিল। ইতিপূর্বে কিশোরী মনোয়ারা কয়েক দফা চেষ্টা করেও পালাতে পারেনি।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টায় সুযোগ বুঝে কিশোরী মনোয়ারা পালিয়ে এসে পার্শ্ববর্তী রথটিলা গ্রামের রফিক মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এ দিকে পালিয়ে আসা কিশোরীকে ধরে নিয়ে আবারও অসমাজিক কাজে (দেহ ব্যবসার) নিয়োজিত করতে আজিদ আলীর বাড়ির জনৈকা আসমা বেগমসহ আরো এক ব্যক্তি রথটিলা গ্রামে রফিক মিয়ার বাড়িতে এসে চাপ সৃষ্টি করেছিল। অবশেষে এ বাড়ির রোকজন বিষয়টি পতনউষার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ চৌধুরীকে অবহিত করলে তিনি তাকে উদ্ধার করে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে সোপর্দ করেছেন।
স্থানীয়ভাবে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে টিলাগড় গ্রামের আজিদ আলরি বাড়িতে আরো কয়েকটি মেয়েকে আটকিয়ে রেখে অসামাজিক কাজ (দেহ ব্যবসা) করানো হচ্ছে। বিভিন্ন স্থান থেকে সন্ধ্যার পর লোকজন এসে এ বাড়িতে ভিড় করতো। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিষয়টি জানলেও তা প্রতিরোধে কোন ভূমিকা নেননি।
কিশোরীকে আটকিয়ে রেখে অসামাজিক কাজে নিয়োজিত করা ও মঙ্গলবার পালিয়ে আসা সম্পর্কে অভিযুক্ত আসমা বেগম বলেন, আসলে মেয়েটি তাদের বাডিতে গৃহকর্মীর কাজ করতো। সে কেন পালিয়ে এসেছে তা তিনি জানেন না ? তাই তাকে নিতে এসেছিলেন। পতনউষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাব্বির আহমদ ভূঁইয়া এ প্রতিনিধিকে বলেন, কিশোরী তার ইউনিয়নের মেয়ে। তার বাবা মা না থাকায় ভাইদের বাড়িতে থাকতো। এখন কিশোরীটি তাঁর জিম্মায় আছে। ভাইদের সংবাদ দেওয়া হয়েছে। তারা যদি তাকে গ্রহন না করে তা হলে কোন স্বহৃদয়বান ব্যক্তির বাসা বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজে নিয়োজিত করে দেবার চেষ্টা করবেন।
কমলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) বদরুল ইসলাম বলেন এ ধরনের কোন ঘটনা তার জানা নেই। তকে খোঁজ করে দেখা হবে। শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী পরিদর্শক মতিউর রহমান সরকারী কাজে মৌলভীবাজারে অবস্থান করছেন বলে এ ধরনের ঘটনা তিনি জানেন না। তবে আজিদ আলীর বাড়িতে এ ধরনের অসমাজিক কাজ করা হয় নিশ্চিত করে বলেন, মাঝে মাঝে পুলিশ অভিযান চালায়।

সর্বশেষ সংবাদ