বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

জঙ্গি ও উগ্রবাদী বক্তব্য বন্ধে ইউটিউবকে প্রস্তাব দেবে পুলিশ

74077_youইন্টারনেটের জনপ্রিয় ভিডিও আদান-প্রদান করার ওয়েবসাইট ইউটিউবে থাকা জঙ্গিবাদসহ উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার বন্ধে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব দেয়া হবে। ভিডিওগুলোতে উগ্রবাদী বক্তব্য দিয়ে চালানো হচ্ছে নানারকম প্রপাগান্ডা। সেই ভিডিও দেখে দেশের জনসাধারণ যেন বিভ্রান্ত না হন এজন্য পুলিশ এ উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
ইতিমধ্যে আলোচনা করে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা এ বিষয়ে আরও হোমওয়ার্ক করে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অবহিত করবেন বলে জানিয়েছেন। কয়েকমাস আগে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট যেন ফেসবুকের ওয়ালে কেউ আপলোড না করতে পারে এ বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে পুলিশ। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ পুলিশের কিছু প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। কিছু প্রস্তাব মানার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। অনুরূপভাবে একই প্রস্তাব ইউটিউব কর্তৃপক্ষকেও দেয়া হবে। এ বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এআইজি (গোপনীয়) মো. মুনীরুজ্জামান মানবজমিনকে জানান, ইন্টারনেট মুক্তমাধ্যম হওয়ার কারণে ইউটিউব কোন বাধা ছাড়াই সবাই প্রবেশ করতে পারেন। ইউটিউবের ভিডিওগুলোতে কয়েকজন জঙ্গির বক্তব্য রয়েছে। নানারকম উগ্রবাদী বক্তব্য রয়েছে। তিনি আরও জানান, এই বক্তব্যগুলোতে যে কেউ বিভ্রান্ত হতে পারেন। অনেকেই বিপথগামী হতে পারে। বিষয়টি ইউটিউবকে অবহিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার সূত্রে জানা গেছে, ইউটিউবের ভিডিওতে লাইক ও অভিমত দেয়া যায়। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ইচ্ছা করলে তাদের পছন্দনীয় ভিডিওটি নির্দ্বিধায় ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। এতে কোনো খরচ হয় না। তবে যদি কেউ ভিউয়ার্স বাড়াতে চান তাহলে কর্তৃপক্ষকে চুক্তি করে অর্থ দেয়া লাগে। তবে এই সাইটে ঢুকতে কোনো বাড়তি অর্থ লাগে না। শুধু গ্রাহকের ইন্টারনেটে টাকা লাগে। এই সাইটে ঢুকে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি সার্চ দিলেই ভিডিওটি চলে আসবে। সূত্র জানায়, ইউটিউবে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-এর (জেএমবি) নেতা জসীমউদ্দিন রাহমানী, মাওলানা সাইদুর, মুফতি আজাদ, মুফতি শামসুল ইসলাম, মুফতি হান্নান এবং শায়খ আবদুর রহমানসহ আরও কয়েকজন জঙ্গির বক্তব্য রয়েছে। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক জঙ্গি গোষ্ঠী তাদের ভিডিওগুলো ইউটিউবে আপলোড করেছে। বিভিন্নস্থানে শেয়ার করেছে। সেই ভিডিওগুলোতে অনেকেই লাইক দিয়েছে। কেউ বিস্তারিত অভিমত প্রদান করেছে। কেউ এইসব বক্তব্য শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করেছেন। আবার অনেক পর্যবেক্ষণকারী বক্তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে, যেন তারা আরো বেশি করে তাদের বক্তব্যগুলো ইউটিউবে আপলোড করে। এ বক্তব্যগুলো শুনে অনেকেই জঙ্গিবাদে উৎসাহিত হতে পারে। এছাড়াও জঙ্গি ও সস্ত্রাসীরা ভার্চুয়াল মিডিয়াকে ব্যবহার করছে। যার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ইউটিউব। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যেসব জঙ্গি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে তাদের অনেকেই পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে যে, তারা ইউটিউবে থাকা ভিডিও দেখে জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে। এই সাইটগুলো দেখে যেন আর কেউ বিভ্রান্ত না হয় এজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি উগ্রবাদী বক্তব্য বন্ধ হলে সাইবার ক্রাইমও কমবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সূত্র জানায়, এইসব বিভ্রান্তির বক্তব্য বন্ধের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ইউটিউব কর্তৃপক্ষকে জানাবে বাংলাদেশ পুলিশ। সূত্র জানায়, কয়েকমাস আগে ইন্টারপোল ও বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিশ্বের ১৪টি দেশের পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় জঙ্গি ও সস্ত্রাসবিরোধী সম্মেলন। সেই সম্মেলনে বাংলাদেশ পুলিশের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে অংশ নেন ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দক্ষিণ এশিয়ার সহকারী পরিচালক (যোগাযোগ) বিক্রম চাটার্জি। সম্মেলনের ফাঁকে পুলিশের আইজি একেএম শহীদুলের সঙ্গে তার একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের যেসব নাগরিক ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলবে তাদের যেন ভোটার আইডি কার্ড এবং পাসপোর্টের কপিসহ আরও কিছু যেন তথ্য চাওয়া হয় এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা দেয়া হয়। যেন অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা যায়। ফেসবুকের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, এটা তাদের একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। তাদেরও কিছু লাভ-ক্ষতির বিষয় রয়েছে। কি প্রস্তাব মানা যায় আর কি যাবে না তা তারা পরে জানাবেন। ইতিমধ্যে পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কিছু প্রস্তাব মেনেছে। ফেসবুকের মতো ইউটিউবকেও একই প্রস্তাব জানানো হবে।

সর্বশেষ সংবাদ