শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

ভুয়া বিক্রেতা উপস্থাপন করে দলিল রেজিস্ট্রি করার চেষ্টা

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মুচলেকা লিখছেন দলিল লেখক ফয়জুর রহমান। ইনসেটে সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মুবশ্বির আলী চাচাই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মুচলেকা লিখছেন দলিল লেখক ফয়জুর রহমান। ইনসেটে সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মুবশ্বির আলী চাচাই।

ডেস্ক রিপোর্ট ।। জেলার কানাইঘাটে সাব রেজিস্ট্রারের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের ভূমি জালিয়াতির চেষ্টা পণ্ড হয়ে গেছে। অবশ্য ভুয়া বিক্রেতা উপস্থাপন করে দলিল রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে ফেসে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুবশ্বির আলী চাচাই ও তার সহযোগীরা। দুই গ্রামের পঞ্চায়েতের দখলিয় জমি জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়ার অপচেষ্টার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে অভিযোগের কথা অস্বীকার করেছেন চাচাই। তার সুনাম নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে একটি পক্ষ এমন করছে বলেও দাবি তার।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, কানাইঘাট উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের উন্দ্রাকান্দি মৌজার বেশ কয়েক একর জায়গার মালিক সরুফৌদ ও নয়াগ্রামবাসী। ওই দুই গ্রামবাসী দীর্ঘদিন থেকে ওই ভূমি পঞ্চায়েতি হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। সম্প্রতি ‘ভূমি খেঁকো’ বড়চতুল ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হাফিজের ছেলে মুবশ্বির আলী চাচাই এবং তার সহযোগী হারাতৈল কাদির গ্রামের শামসুল হকের ছেলে হেলাল আহমদের নজর পড়ে এই জায়গার দিকে। কিভাবে ওই জমি হাতিয়ে নেয়া যায় ফন্দি আটেন।

সর্বশেষ সরুফৌদ গ্রামের পুত্র ইসমত উল¬াহ, সিদ্দেক আলী, রেজোয়ান আহমদ ও ফয়জুল হককে ভুয়া উত্তরাধিকার সাজিয়ে সনদপত্র তৈরি করেন। এরপর মুবশ্বির আলী চাচাই ও হেলাল উদ্দিন তাদের বানানো ভুয়া উত্তরাধিকারীদের বিক্রেতা সাজিয়ে নিজেদের নামে ওই ভূমি রেজিস্ট্রি করতে যান। ফয়জুর রহমান নামের মহরীর মাধ্যমে দলিল সম্পাদন করে সাব রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেন। সাব রেজিস্ট্রারের কাগজপত্র দেখে সন্দেহ হয়। তিনি দলিলটি ফেরত দেন। এরপর বেরিয়ে আসে ঘটনার মূল রহস্য। খবর পেয়ে দুই গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পর্যন্ত গড়ায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহসিনা বেগম জানান, দলিল লিখক ফয়জুর রহমান তার অপরাধ স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ৩শ’ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে ছাড়া পান। তবে বিষয় সম্পর্কে ৫নং বড় চতুল ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হোসাইন চতুলী ভাল ভাবে বলতে পারবেন। তিনি প্রতিবেদককে চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পরামর্শ দেন।

বড়চতুল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘এলাকাবাসীর এজমালি সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে হেলাল আহমদ ও মুবশ্বির আলী চাচাইরা উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ফয়জুর রহমানকে দিয়ে রেজিস্টারি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ায় তারা ব্যর্থ হন। যা গত ৯ আগষ্ট উপজেলা নিবার্হী অফিসারের সামনে দলিল লেখক ফয়জুর রহমান নিজেই লিখিত মুচলেকায় স্বীকার করেছেন। এছাড়া একটি দলিলের কপি গ্রামের মুরব্বিদের কাছে রক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন ওই সদস্য।’ বড়চতুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হোসাইন চতুলীও একই ধরনে কথা বলেছেন।

তবে ভূমি জালিয়াতিতে নিজের কোন ধরনে সংশ্লিষ্টতা নেই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুবশ্বির আলী চাচাই বলেন, ‘হেলাল মিয়া নামের এক ব্যাক্তি আমার নাম ব্যবহার করে দলিল সম্পাদন করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছিলো। বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে আসার পর তাকে ডেকে এনে সালিশের মুখোমুখি করে। সে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেয়। তিনি বলেন, মূলত তার সুনাম নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। যারা দলিল করার চেষ্টা করেছে, সেটা তাদের সম্পূর্র্ণ নিজের ব্যাপার। এতে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।’

সংবাদ শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

BengalTimesNews.com