শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

দুর্গা পূজা জন্য প্রস্তুত সিলেটের ছয় শতাধিক মণ্ডপ, কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা

RERERসিলেট নগরীতে শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে প্রতিটি মন্দির ও মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রতিমা তৈরিতে রঙের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।

মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মহালয়ার মাধ্যমে বেজে উঠে দুর্গার আগমনী বার্তা। শিল্পীর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা এবং তার সাথে থাকা লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিক ও অনিষ্টকারী অসূরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি।

২৬ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী পূজা থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে উঠবে ঢাকঢোল আর কাঁসার শব্দ। পাঁচ দিনের উৎসবের পর ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিমা বিসর্জনের পর ঘটবে এর সমাপ্তি।

প্রতিবছরের মতো এ বছরও দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে চলছে সাজ-সজ্জার বিশেষ আয়োজন। শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। সকল পূজা মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে, এখন চলছে রং তুলির শেষ আঁচড়।

নগরীর বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমার রঙ তুলির কাজ চলছে। এক কথায় বলা যায়, দম ফেলারও ফুরসৎ নেই এখন প্রতিমা শিল্পীদের। আবার অনেক মণ্ডপে প্রতিমার তৈরির কাজ পুরোদমে শেষ না হলেও চলছে কাপড়ের তোরণ, সাজসজ্জা এবং আলোকসজ্জার কাজ।

এ বিষয়ে মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরডটকমকে বলেন, সিলেট জেলাতে এবারের মোট পূজার সংখ্যা ৫৭৬ টি। এর মধ্যে ৬০ টি পূজা ব্যক্তিগত। এছাড়া নগরীতে মোট ৬৪টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে। যার মধ্যে ৪৭ টি মণ্ডপে সার্বজনীন দুর্গা পূজা ও ব্যক্তিগত পূজা ১৭টি।

সিলেটে দুর্গা পূজা আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের এ নেতা । তিনি আরো বলেন “সিলেটে এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি মণ্ডপে দুর্গা পূজার আয়োজন করা হচ্ছে। নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে নেয়া হচ্ছে নানা পূর্ব প্রস্তুতি।”

তিনি জানান, সকল পূজা মণ্ডপের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। অনেক স্থানে আলোকসজ্জা বাদে সব কাজই শেষ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে নগরীর মাছুদীঘীরপাড়ে অবস্থিত ত্রিনয়নী সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব পাল বলেন, এবছর আমরা ১০ম বর্ষে পদার্পণ করলাম। এখন পর্যন্ত আমাদের পূজা মণ্ডপের স্টেজের কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আর প্রতিমার কাজ প্রায় শেষ। এখন রয়েছে শুধু প্রতিমার গায়ে রং তুলির শেষ কাজটুকু।

বিপ্লব পাল বলেন, গতবারের তুলনায় এবারে প্রতিমা, আলোকসজ্জা এবং কাপড়ের তোরণ নির্মাণে খরচে বলতে গেলে প্রায় দেড়গুণ বেশী বাজেট ধরা হয়েছে। কারণ গতবছরের তুলনায় এ বছর কাজও বেশী তাছাড়া প্রতিমা কারিগর ও আলোকসজ্জা কর্মীদেরও মজুরি বেশী।

এদিকে দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে সিলেট বিভাগের সর্বত্রই নেয়া হচ্ছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নগরীতে প্রতিমা নির্মাণের সময় নিরাপত্তা দিতে ব্যবস্থা করা হয়েছে সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরার, যা স্বস্তি দিচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনে।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরডটকমকে জানান, “সিলেট নগরীতে আসন্ন দুর্গা পূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা বিষয়ক সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পূজার সময় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। পূজা শুরুর দিন থেকে প্রতিটি মণ্ডপে প্রয়োজন মতো পুলিশ মোতায়েন করা হবে।”

তিনি আরো বলেন, “নিরাপত্তা-জনিত কারণে এ বছর প্রতিমা বানানোর শুরু থেকেই সিলেটে প্রতিমা শিল্পীদের ও প্রতিমার নিরাপত্তায় পুলিশী প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে”।

সর্বশেষ সংবাদ