মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

সীমান্ত জনপদ গোয়াইনঘাটে মাদক ব্যবসা বেপরোয়া

আবুলIMG_20170417_195557_160-300x191 হোসেনঃ সীমান্ত জনপদ গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা গুলোতে মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা সীমান্ত এলাকার বিছনাকান্দি, দমদমা, লক্ষণছড়া, কুলুমছড়া, সোনারহাট, পান্তুমাই,প্রতাপপুর, পুরাতন সংগ্রাম পুঞ্জি, সোনাটিলা, তামাবিল, আমস্বপ্ন মিত্রি মহলসহ উপজেলার ৫টি সীমান্ত ফাঁড়ির আশপাশের অর্ধ্ব শতাধিক সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে চোরাই পথে বিভিন্ন ধরণের মাদকদ্রব্য সামগ্রী আনছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ও বিজিবি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্তবর্তী দেশ ভারত থেকে অবাধে নিয়ে আসছে মরণ নেশা মদ, ফেনসিডিল, বিয়ার, গাঁজা, হেরোইনসহ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট। গোয়াইনঘাটের সীমান্ত এলাকাগুলো এখন অপরাধ ও মাদকের অভয়ারণ্য পরিণতি। যার ফলে এসব এলাকার উঠতি বয়সের তরুণরা মাদকের দিকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে করে এলাকায় চুরি-ডাকাতিসহ নানারকম অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ার সুবাধে পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে মাদক আমদানী করতে সহজ হওয়ায় চোরা কারবারীরা এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে। সীমান্ত এলাকাগুলোতে পুলিশ ও বিজিবি‘র টহল জোরদার থাকলেও তেমন একটা কাজে আসছে না বলে সচেতন মহলের অনেকেই অভিযোগ করেন। চোরকারবারীরা অনায়াসে নিয়ে আসছে শাড়ী, থ্রীপিস, গরু, কাঁচামাল সহ অন্যান্য মরণ নেশা মাদক। আর এগুলো পাচার করছে শহর‘র নামিদামী হোটেল, পর্যটন মোটেল ও মার্কেট গুলোতে। আর রাতের আঁধারে এসকল মাদক পাচার হচ্ছে সিলেট শহরের নামীদামী হোটেল রেষ্ট হাউজ সহ রাজধানী ঢাকা শহরে। এ সকল মাদক পাচারের সহযোগী হিসাবে রয়েছে কিছু সংখ্যক দালাল চক্র। তাদের মধ্যে রয়েছে চিহ্নত নয়াগাও গ্রামের জালাল ও লক্ষণছড়া গ্রামের জয়নাল। এ দিকে র্যাব-পুলিশ ও বিজিবির অভিযানে গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তপুর ইউনিয়নের বিছনাকান্দি, হাদারপাড়, নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের মিত্রিমহল, সালুটিকর, পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের সোনাটিলা, মোহাম্মদপুর, গুচ্ছগ্রাম, তামাবিল, আমস্বপ্ন, বল্লাঘাটসহ আশপাশ এলাকা থেকে পুলিশ ও বিজিবির অভিযানে একাদিক বার মাদক উদ্ধার ও একাদিক ব্যক্তিকে আটক করলেও তা তোয়াক্কা না করেই চলছে মাদক ব্যবসা। অবাধে মাদক বিক্রি ও সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক আনার অভিযোগের ঘটনায় এখনও এলাকায় তোলপাড় চলছে।এলাকার সচেতন মহল দাবী করছে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার না থাকার কারণে অবাধে মাদক আসছে এবং যুব সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ও বিজিবির নিয়মিত টহল জোরদার করার আহবান জানায় সচেতন মহল।এ ব্যাপারে সংগ্রাম সীমান্ত ফাঁড়ির ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার জামাল মিয়ার সাথে আলাপকালে তিনি জানান, মাদক আমদানী রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সবসময় তৎপর রয়েছে। তবে চোরাকারবারী ও মাদক ব্যবসায়ীরা যাতে মাদকদ্রব্য আমদানী করতে না পারে এরই লক্ষ্য বিভিন্ন পয়েন্ট চিহ্নিত করে কঠোর নজরদারী বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।এ ব্যপারে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন জানান পুলিশ অভিযান চালিয়ে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ উল্লেখ সংখ্যক মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং একাদিক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। তিনি আরও বলেন গোয়াইনঘাট উপজেলাকে মাদক মুক্ত করতে আমাদের টহল টিম সব সময় মাঠে রয়েছে। কাউকে মাদক সহ যে কোনো অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে পেলে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ