শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

প্রতারক চক্রের নারী সদস্য মুনতাহা সিলেট থেকে আটক

প্রতারকresize চক্রের নারী সদস্য সিদরাতুল মুনতাহা চৌধুরী (২৯) কে সিলেট থেকে আটক করেছে পুলিশ। হাজীগঞ্জ থানার একটি মামলার সূত্রে তাকে আটক করা হয়েছে।
ওই নারী সদস্যকে বৃহস্পতিবারে হাজীগঞ্জ থানা ও সিলেট আম্বরখানা পূলিশ ফাঁড়ির ফোর্সের যৌথ অভিযানে সিলেট বিমানবন্দর থেকে আটক করে শুক্রবার দুপুরে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। সে সিলেট জেলার বিয়ানী বাজার উপজেলার কাজী মল্লিক গ্রামের মইজ উদ্দিন চৌধুরীর মেয়ে। তার সাথে আরও চার প্রতারক সদস্য জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানায় হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের মকিমাবাদ গ্রামের মৃত হাজী আঃ রহমানের ছেলে হাজী আলী আশ্রাফ (৬০) বাদী হয়ে ৫ জনকে বিবাদী করে একটি মামলা দায়ের করেন।
প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সিলেট জেলার বিয়ানী বাজার উপজেলার কাজী মল্লিক গ্রামের মইজ উদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী রতœা খানম চৌধুরী (৫৫), একই এলাকার মির্জা ওয়াহিদুর রহমান, ঢাকা জেলার ধানমন্ডি থানার জিগাতলা মনেশ্বর রোডের আঃ মালেক সরকারের ছেলে জেমস ওয়াহীদ (২৯) ও হাজীগঞ্জ উপজেলার খাগবাড়িয়া খাঁন বাড়ির মাজহারুল ইসলামের ছেলে মোঃ রাইসলু ইসলাম ওরফে রিজন।
বাদী হাজী আলী আশরাফ জানায়, ‘দুই বছর পূর্বে আমার ছেলে মোঃ নুরুজ্জামানকে বিদেশে নেয়ার কথা বলে কয়েকধাপে ২৫ লাখ টাকা নিয়ে যায় কানাডিয়ান প্রবাসী মুনতাহাসহ অন্যান্য প্রতারক চক্র। মামলার ৫নং বিবাদী মোঃ রাইসুল ইসলামের সহযোগিতায় ওই চক্র আমাদের কাছ থেকে নগদ, চেক ও বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করে। এই বিষয়ে মামলার এজহারে স্বাক্ষীগণের নাম ও ব্যাংক একাউন্টের হিসাব বিবরণী উল্লেখ করা হয়েছে।’
হাজীগঞ্জ থানা উপ-পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর ১৬ লক্ষ টাকা নগদ, ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ হাজীগঞ্জ শাখার মাধ্যমে ২০ সেপ্টেম্বর’১৫ তারিখে ২৫ হাজার টাকা, ব্র্যাক ব্যাংক হাজীগঞ্জ শাখার মাধ্যমে ২৭ সেপ্টেম্বর’১৫ তারিখে ১ লক্ষ টাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর’১৫ তারিখে ১ লক্ষ টাকা, ৫ অক্টোবর’১৫ তারিখে ২ লক্ষ টাকা, ব্যাংক এশিয়া লিঃ হাজীগঞ্জ শাখার মাধ্যমে ২১ অক্টোবর’১৫ তারিখে দেড় লক্ষ টাকা, ব্র্যাক ব্যাংক লিঃ মিরপুর শাখার মাধ্যমে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়াও বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে তিন ধাপে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা প্রতারক চক্রদের নিকট প্রদান করা হয়।’
বাদীর ছেলে মোঃ নুরুজ্জামান জানায়, ‘তাকে গত দুই বছরে কয়েকবার বিবাদীগণ মোবাইলে ফোন করে ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে। কিন্তু, মৃত্যুর ভয়ে তাদের ফাঁদে পড়েনি। সে বলে- শুনেছি তারা নাকি এভাবে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মানুষকে মেরে ফেলে।’ হাজীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোং জাবেদুল ইসলাম জানান, ‘আটক নারী একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
উল্লেখ্য, চাঁদপুর পুলিশ সুপার অফিসের স্মারক নং- ২৯৪৬/২য়, তারিখ- ২৪ মে’১৭ শনিবার এর বরাত দিয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিদর্শক মোঃ আহসানুজ্জামান এর অফিসে ৬ জুন’১৭ তারিখে উভয় পক্ষকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলে বিবাদীগণ অনুপস্থিত থাকে।

সর্বশেষ সংবাদ