রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

ঘুষের মামলায় শিক্ষা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে চার্জশিট

দুই লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের মামলায় শিক্ষা ভবনের সহকারী পরিদর্শক (পরিদর্শন ও নিরীক্ষা) মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে দুদক। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম এই চার্জশিট গঠন করে আদালতে পাঠিয়েছেন। এর আগে ৩০শে মে আসামি মোস্তাফিজুর রহমানকে পঞ্চগ্রাম সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রণজিৎ কুমার বৈরাগীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে দুদকের একটি টিম। দুদকের কর্মকর্তারা জানান, মোস্তাফিজুর রহমান ২৫শে মে পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার পঞ্চগ্রাম সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আর্থিক ও নিয়োগসহ যাবতীয় বিষয়ে পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে কোনো অনিয়ম না থাকা সত্ত্বেও তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দিলে পরিদর্শন রিপোর্ট খারাপ দেবেন বলে ভয়ভীতি দেখান। এসময় তিনি আরো বলেন, ঘুষের টাকা তিনি একা  নেবেন না। টাকার ভাগ টেবিলে টেবিলে দিতে হবে। ঘুষের টাকা ঢাকায় এসে দিতে হবে বলেও তিনি জানান। স্কুলের প্রধান শিক্ষক রণজিৎ কুমার বৈরাগী পরিদর্শকের অবৈধ ভাবে ঘুষ দাবির বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তাই তিনি বিষয়টি লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন করেন। কমিশন অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামি মোস্তাফিজুর রহমানকে ধরার জন্য একটি ফাঁদ তৈরি করে। দুদক সূত্রে আরো জানা যায়, প্রধান শিক্ষক রণজিৎ কুমার বৈরাগী, শিক্ষা পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানকে তার দাবিকৃত ঘুষের ২ লাখ টাকা দিতে রাজধানীর নয়া পল্টনের পলওয়েল সুপার মার্কেটের পূর্ব দক্ষিণ কর্ণারের সিঁড়ির নিচে যান। সেখানে আসামিকে ২ লাখ টাকা ঘুষ দেন। ঘটনাস্থলের আশেপাশে আগে থেকেই দুদকের একটি টিম ওত পেতে ছিল। প্রধান শিক্ষক আসামিকে ঘুষ প্রদানের সঙ্গে সঙ্গেই দুদকের কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। আসামি মোস্তাফিজুর রহমান তখন ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন। এসময় তার কাছ থেকে আরো নগদ ৯৮ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এসব টাকার উৎসের সঠিক কোনো জবাব তিনি দিতে পারেননি। ঘটনার পরপরই দুর্নীতি দমন কমিশনের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নূর-ই আলম  বাদী হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণ করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তের ভার দেয়া হয় ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলামের কাছে।
তদন্ত করে আসামির অপরাধের সত্যতা পাওয়া যায়।

সংবাদ শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

BengalTimesNews.com