মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

কিম জং-নাম হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার

মালয়েশিয়ার আদালত। চারপাশে সাংবাদিক। কঠোর নিরাপত্তা। তার মাঝে আদালত কক্ষে মাথা নিচু করে প্রবেশ করলেন দুই নারী। তাদের হাতে হ্যান্ডকাফ। বুলেটপ্রুফ ভেস্ট লাগানো। রাজধানী কুয়ালালামপুরের শাহ আলম আদালতে এমনভাবেই শুরু হয়েছে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সৎভাই কিম জং-নাম হত্যাকাণ্ডের বিচার। কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে তার মুখে নার্ভ গ্যাস ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। এতে মারা যান কিম জং নাম। এ ঘটনায় তোলপাড় হয়। এক সময়ে ভাল সম্পর্ক থাকলেও মালয়েশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সেই সম্পর্কে টান লাগে। উত্তেজনা এতটাই বেড়ে যায় যে, দুই দেশ একে অন্যের রাষ্ট্রদূতদের বহিষ্কার করে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দু’যুবতীকে। তাদের একজন ভিয়েতনামের। নাম ডোয়ান থি হুয়াং (২৯)। অন্যজন ইন্দোনেশিয়ার। নাম সিতি আয়েশা (২৫)। সোমবার সকালে দীর্ঘ আট মাস পরে তাদের বিচার শুরু হলো মালয়েশিয়ায়। এ সময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তাদের আইনজীবী বলেন, কিম জং-নামকে হত্যা করেছে উত্তর কোরিয়ার এজেন্টরা। তবে আগেভাগেই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পিয়ংইয়ং। তা সত্ত্বেও মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ মনে করে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত উত্তর কোরিয়ার চার ব্যক্তি। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ও গুপ্তচরবৃত্তি করছিল। যেদিন কিম জং-নামকে হত্যা করা হয় সেদিনই তারা মালয়েশিয়া ত্যাগ করে। এ ঘটনায় উত্তর কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এ মামলায় আরো মানুষ জড়িত থাকলেও ওই দুই যুবতী ছাড়া অন্য কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় নি। আদালতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাদের আইনজীবী এ সময় অভিযোগ করেন, এ হত্যাকাণ্ডের মূল অপরাধী হলো উত্তর কোরিয়ার এজেন্টরা। তারা মালয়েশিয়া থেকে পালিয়েছে। তবে প্রসিকিউটর এ বক্তব্যকে খণ্ডন করেন। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার পলাতক ব্যক্তিদের সঙ্গে এই দু’যুবতী জড়িত এমন প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই যুবতীদের মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

সংবাদ শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

BengalTimesNews.com