বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

স্বজাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকরা হারিয়ে যাবে ……..ফজলুর রহমান

23313178_2059009357655720_846766900_o৭০‘ এর নির্বাচনে যারা নৌকার বিরোধিতা করেছে। স্বাধীনতা পরবর্তীতে তাদের অধিকাংশ আই, এস, আই এবং সি, আই, এর সাথে হাত মিলিয়ে দেশকে অশান্ত করে তুলেছিল। ৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যার পর দেশকে তারা বিকল্প পাকিস্তান ভেবে জয় বাংলা থেকে জিন্দাবাদ, বাংলাদেশ বেতার থেকে রেডিও বাংলাদেশ  এ পরিনত করেছিল। কুখ্যাত স্বাধীনতা বিরোধী শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিল। স্বাধীনতা বিরোধী আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে রাষ্ট্রপতি বানিয়েছিল। কুখ্যাত রাজাকার আব্দুল আলীমকে মন্ত্রী বানিয়েছিল, স্বাধীনতা বিরোধী সাকা চৌধুরীকে, নিজামী, মুজাহিদের গাড়ীতে বেগম খালেদা জিয়া মহান জাতীয় সংসদের পতাকা তুলে দিয়েছিল। তারপর ও যখন এই মহিলা গণতন্ত্রের কথা বলে, স্বাধীনতার বক্তৃতা দেয়। মোর হাসি পায়। মুই মুখ লোকাবার চেষ্টা করি লজ্জায়? মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মুক্তি যুদ্ধের চেতনার বিশ্বাসী দের নিয়ে সাকা চৌধুরীর আস্ফালনের কথা মনে পড়লে এখনও আমি ভয়ে কুকড়ে যাই। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। আজ কোথায় সাকা, কোথায় গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহিদ, কোথায় বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীর দল?
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পদদলিত করে পাকিস্তানী ভাবধারাকে অনুসরন করেছিল। এরা মুখে স্বাধীনতার কথা বলে, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে। কিন্তু কার্যত তারা মুক্তিযুদ্ধের পরিপন্থি কাজগুলো তারা করে। বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের কথা তারা বলে, কিন্তু ৬৬’র ৬ দফা কথা কস্মিনকালে ও মুখে আনেনা। ৬৯’এর গণ আন্দোলনের কথা ভুলে ও উচ্চারন করেনা। ৭০’র ঐতিহাসিক নির্বাচনের কথা কোনভাবেই বলেনা। যে সরকার নয়মাস দেশে বিদেশে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছে, সেই মুজিবনগর সরকারকেই তারা অস্বীকার করে। শুধু কি তাই জাতির পিতার নাম তারা মুখে ও আনেনা। ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট থেকে ৯৫ ইং পর্যন্ত রাজত্ব করেছে পাকিস্তান, কিসিঞ্জার, আর তাদের দালালরা। অবিশ্বাসী মুনাফিকদেরকে আল্লাহ পাক রাবক্ষুল আলআমীন নির্ধারিত সময়ের জন্য অবকাশ দিয়েছিলেন, তারা যেন নিজেদের শুধরাতে পারে। চোর না শুনে ধর্মের কাহিনী । ১৯৯৬ ইং আওয়ামীলীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় আসে। কিন্তু ২০০১ এর নির্বাচনে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রের কাছে আবারও পরাজিত হয়। ক্ষমতায় এসেই পাকিস্তানী দালাল খালেদা তারেক মায়ের পুত্র মিলে স্বিদ্ধান্ত নেয় শেখ হাসিনাকে দুনিয়া থেকে সরাতে হবে। কারণ আওয়ামীলীগ একবার ক্ষমতায় এসেছে। আরেকবার যে আসবেনা তার নিশ্চয়তা কি? সুতরাং জাতির পিতার কন্যাকে, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বেদানকারী আওয়ামীলীগের সভানেত্রীকে হত্যা না করলে ক্ষমতা চিরদিনের জন্য পাকাপুক্ত করা যাবেনা। ২০০৪ এর ২১ শে অগাষ্ট দিনে দুপুরে কোন ঢাকঢোক না রেখেই বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামীলীগের জনসভায় চারিদিকে থেকে সাড়াশী আক্রমন চালায় মুনাফিকের দল। বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন মানুষকে হত্যা করে। অলৌকিক ভাবে বেঁচে যান গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। মুখে স্বাধীনতার কথা বলে আর কাজ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। ১৯৭১ এ পাকিস্তান সহ যারা আমাদের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল তাদের সাথে গড়ে তোলে সখ্যতা। কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে ?
স্বজাতির সাথে বিশ্বাসঘাতক বেঈমানদের হানিমুন পিরিয়ড থেমে যায় ২০০৮ জাতীয় নির্বাচনে। শুরু হয় সত্যের জয় জয়কার। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শেখ হাসিনা আর সত্যের আল্লাহ প্রদত্ত হানিমুন পিরিয়ড শুরু হয় এবং এখনও চলিতেছে। সত্যের মৃত্য নেই। আমার বিশ্বাস মুক্তিযুদ্ধের চেতনার এই হানিমুন পিরিয়ড অনন্তকাল ধরে চলমান থাকবে। কালের ¯্রােতে হারিয়ে যাবে স্বজাতির সাথে বিশ্বাসঘাতক মুনাফিকের দল।

লেখক: রাজনীতিবীদ।

সর্বশেষ সংবাদ