রবিবার, ২০ মে ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

৩০ নভেম্বর সারাদেশে হরতাল

BKevj gbmyiবিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে আগামী ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সারাদেশে আধাবেলা হরতাল ডেকেছে বাম দলগুলো।

বৃহস্পতিবার বিইআরসির ঘোষণার পর এই কর্মসূচি দেয় সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা।

বুধবার এক সমাবেশ থেকে বাম দলগুলো হুমকি দিয়েছিল, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে হরতাল দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ৩৫ পয়সা বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানায়, যা আগামী ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

গণশুনানির পর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে আগের দিন জেলায় জেলায় সমাবেশ করেছিল বাম দলগুলো।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেছিলেন, “গণশুনানির নামে প্রহসন হয়েছে। বিদ্যুতের দাম যদি আবার বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়, তাহলে হরতাল ছাড়া আমাদের বিকল্প কিছু করার থাকবে না।”

আট বছর আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর এনিয়ে আটবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হল।

বৃহস্পতিবার বিইআরসি দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর বাম দলগুলোর নেতারা জরুরি বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৩০ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল আহ্বানের কথা জানানো হয়।

সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সাংবাদিকদের বলেন, “এটা একটি গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। আমরা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাই। সেই প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই ৩০ নভেম্বর সারা দেশে আমরা হরতাল ডেকেছি।”

এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের পাশাপাশি দাম কমানোর একটি প্রস্তাব নিয়েও গণশুনানি করেছিল বিইআরসি, যাতে বাম নেতারা দাম কমানোর যুক্তি দেখিয়েছিলেন।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর গণশুনানিতে আয়-ব্যয় সমন্বয়ের জন্য দাম না বাড়িয়ে বরং এক পয়সা থেকে ৬ পয়সা পর্যন্ত দাম কমানো যেতে পারে বলে হিসাব দেখিয়েছিলেন তারা।

সেলিম বলেন, “গণশুনানিতে আমার প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছিলাম, এই মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম কমানো সম্ভব। কিন্তু সেটা না করে উল্টো দাম বাড়ানো হয়েছে। যেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

হরতাল আহ্বানের এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। উপস্থিত ছিলেন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সাত্তার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল্লাহ আল ক্বাফী রতন, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, ফখরুদ্দিন কবির আতিক, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক মনির উদ্দিন পাপ্পু।

সংবাদ শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

BengalTimesNews.com