রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

শৈশব প্রেম, সে কি ভোলা যায় ?

32555সেই যে হারালাম আর তো পেলাম না। খুঁজছি দিগভ্রান্তের মতো মাঠে-ঘাটে, নির্জন প্রান্তরে। কই যে গেল? আর ফিরে এলো না। অথচ খুব কাছেই নাকি তার বাস। চাষার ছেলে বলেই কপালে জোটেনি। শৈশব প্রেম, সে কি ভোলা যায়! ভুলতে চেষ্টা করলাম বহুবার। পারি নাই। এই বেহায়া মনে আর ভুলতে পারব বলেও বিশ্বাস করি না’।

এ আকুতি বাউল সাধক সামছেল হক চিশতির। খেলাম মাঠ থেকেই শৈশবে প্রেমে মজেছিলেন তিনি। নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে কোন বেলায় প্রেম হলো, আর কোন বেলায় বিচ্ছেদ ঘটল, তার কিছুই ঠিকঠিক এখন বলতে পারেন না। এরপর আরও প্রেম হয়েছে। এখনও চারজন স্ত্রীর সঙ্গে সংসার ধর্মে ব্রত। কিন্তু শৈশবের সেই প্রেমকে সত্য জেনে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে।

১৯৬৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও গ্রামে জন্ম। পিতা করম আলী কৃষক ছিলেন। বেঁচে থাকার ভরসা কৃষিই। যেটুকু পড়ালেখা তার ওপর ভর করে হোমিও চিকিৎসকায় দীক্ষা নিয়েছেন। জীবনের দীর্ঘ পথ হেঁটেছেন এ চিকিৎসা সেবা আর গান ভজনের মধ্য দিয়ে। দুটোই তার নেশা। পেশাদারিত্ব তিনি কখনই দেখাতে পারেননি। গান সাধনা আর চিকিৎসা সেবা ফেরি করেই বেড়ান। ঢাকার তুরাগ তীরের ওপারে কাউন্দিয়ায় বছরের খানিক সময় থাকেন দুই স্ত্রীকে নিয়ে। অপর দুই স্ত্রী ছয়-ছেলেমেয়েদের নিয়ে থাকেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

নির্লোভ, নির্মোহ এবং সাদামাটা গোছের সামছেল হক এখন চিশতী বাউল নামেই অধিক পরিচিত। গত বছর ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্টে মাতিয়ে ছিলেন ‘বেহায়া মন’ গান গেয়ে। সেই থেকে চিশতি বাউল ‘বেহায়া মন’ নামেও এখন পরিচিত। দেশীয় আর আধুনিক যন্ত্রের সমন্বয়ে গান বাংলা চ্যানেলে বেহায়া মন সিরিজের তিনটি গান করে ঝড় তুলেছেন ভার্চুয়াল জগতে। খুব অল্প সময়েই লাখ লাখ ভিউয়ার বেহায়া মনে।

সম্প্রতি ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে একটি গানের অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎ মেলে চিশতি বাউলের। বলেন, প্রেমে বিচ্ছেদ না থাকলে তার কোনো মানে থাকে না। বিচ্ছেদ থেকেই বিশ বছর আগে ‘বেহায়া মন’ গানগুলো লিখেছি। এখন শ্রোতা মনে পূর্ণতা পাচ্ছে।’

‘যা হারিয়েছি, তা আর পাবো না হয়ত’ উল্লেখ করে বলেন, বেহায়া মানে জেদি। আবার ধৈর্যশীলও। মনের মানুষ পাইতে জেদি বা ধৈর্যশীল না হলে মেলে না।‘ বেহায়া মনটা নিয়া তোমারে ভালোবাসিয়া, আজ আমার ঘটিল জঞ্জাল। বন্ধুরে, তোরে ভালোবাসি বলে লোকে কয় চণ্ডাল/ কাটা গায়ে লবণ দিয়া খোঁচাইয়া তুলছো ছাল/ আজ আমার ঘটিল জঞ্জাল” গানটি লিখেছিলাম না পাওয়ার বেদনা থেকে। তবুও ধৈর্য ধরে আছি পাওয়ার আশায়। তাই আবারও লিখলাম, ‘‘যদি থাকে নসিবে আপনা আপনা আসিবে/ জোর করে মন হরণ করো না, করে ছলনা/ এ যে ভীষণ যন্ত্রণা/’’ গানটি।’

বলেন, ‘ঠিক ঈশ্বরকে পাইতেও মনকে বেহায়া বানাতে হয়। সংসার আর সমাজের বেড়াজালে আটকে থাকলে বেহায়া হওয়া যায় না। পরমাত্মার প্রেমে সংসার করতে হলে আগে মনকে বেহায়া করতে হয়। এখন তাই করার চেষ্টা করছি।

সংবাদ শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

BengalTimesNews.com