রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

১০৯ কোচিং সেন্টার মালিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

94538_dddদেশে আশঙ্কাজনকভাবে গড়ে উঠছে কোচিং সেন্টার। নামে-বেনামে গড়ে ওঠা এসব কোচিং সেন্টার রাজধানীকে মূল কেন্দ্র করে দেশব্যাপী গড়ে তুলছে নেটওয়ার্ক। অভিযোগ উঠেছে এসব কোচিং সেন্টারের মালিকরাই ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভুয়া পরীক্ষার্থী সরবরাহ, অর্থের বিনিময়ে ভর্তি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। দেশব্যাপী গড়ে ওঠা এসব কোচিং সেন্টারের মালিকের অবৈধ সম্পদের তদন্তে মাঠে নামছে দুদক। কোচিং সেন্টার মালিকদের বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত নানা অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের কাছে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। চেয়ারম্যান অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন।

খুব শিগরিই দুদক সমন্বিত ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে তদন্তে নামবে দুদক কর্মকর্তারা। দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব ড. শামসুল আরেফিন বলেন, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দুদকে এসেছে। কমিশন এটি যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিবে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, কোচিং সেন্টারগুলোর কারণে শিক্ষার বাণিজ্যিকরণ অনেকটা বেড়ে গেছে। রাজধানীকেন্দ্রিক কোচিং সেন্টারগুলো ঢাকার বাইরে একের পর এক শাখা খুলছে। কোচিং বাণিজ্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও এই বাণিজ্য এখন অনেকটাই তুঙ্গে। অনেকেই জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে ব্যবসার নিবন্ধন নিয়ে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে। আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানহীন শিক্ষক দিয়ে এসব সেন্টার পরিচালনা করা হয়। এমনকি খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বনামধন্য শিক্ষকরা বসত বাড়িতে সাইনবোর্ডবিহীন কোচিং বাণিজ্য করছেন। সেখানেও ব্যাচে ব্যাচে শিক্ষার্থীরা কোচিং করছে। অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের অসদুপায় অবলম্বন করে তারা কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ যাচাই বাচাই করে চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, বাণিজ্যিক দৃষ্টিতে কোচিং সেন্টারগুলো দেশের শিক্ষা খ্যাতের জন্য বড় ধরনের একটা হুমকি। তারা শিক্ষাকে পণ্য হিসাবে ব্যবহার করে অভিবাবকদের জিম্মি করে টাকা নেয়। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। দেশ হবে মেধা শূন্য। তিনি বলেন, এছাড়া এসব কোচিং সেন্টার মালিকরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থেকে দেশের শিক্ষাকে ধ্বংসের দারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। তাই দুদক যদি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বে থেকে সঠিক পদক্ষেপ নেয় তবে এটা সত্যিই একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১২ সালের ২০শে জুন কোচিং বাণিজ্য বন্ধের নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর ওই বছরের ২৫শে জুন সেই নীতিমালায় একটি সংশোধনী আনা হয়। এতে স্কুল ভিত্তিক কোচিং নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারী-বেসরকারি শিক্ষকরা নিজ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। তবে তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের অনুমতি সাপেক্ষ অন্য প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট বা কোচিং করাতে পারবেন। তবে এই নীতিমালা কেউই মানছেন না বরং এই কমিটিও এখন নিষ্ক্রিয়। এছাড়া এই নীতিমালার পর কোচিং বাণিজ্য বাড়ার পাশাপাশি কোচিং ফিসও বেড়েছে। সূত্রে জানা যায়, কোচিং সেন্টারের মালিকরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র কেনাবেচা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ কামিয়ে অনেকেই গ্রুপ অব কোম্পানি খুলে ব্যবসা করছেন। এছাড়া মেডিকেলে ভর্তি করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশের বহু স্থানে ব্যবসা করছে একাধিক কোচিং সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁস কেনাবেচা করার অভিযোগ আছে। তারা ভর্তির নিশ্চয়তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো ১০৯ টি কোচিং সেন্টারের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য রয়েছে ৩৩টি, মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তির ১৪টি, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির জন্য ৫টি, একাডেমিক কোচিং ১৮টি, ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষা শেখার জন্য ১৯টি, বিসিএস ও অন্যান্য চাকরির জন্য ১৪টি ও টেক্সটাইল ও ক্যাডেট কোচিং এর জন্য রয়েছে আরো ৬টি কোচিং সেন্টার। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কোচিং সেন্টারগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউসিসি, ইউনিএইড (কিরণ, কবির, সুমন), ইউনিএইড (মনির, মল্লিক, জহির), ফোকাস, সানরাইজ, গার্ডিয়ান, ডিভাইন, এমইউসিসি (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়), সাইফুরস, ইপিপি (শুধু ক-ইউনিট), ডিইউসিসি, ডি-হক স্যার, লীডস, হোপ, আইকন প্লাস, ভয়েজ, মেরিন, আইকন, কোয়ান্টা, দুর্বার, প্যারাগন, অ্যাডমিশন অ্যাইড, প্রাইমেট, প্লাজমা, এইউএপি, সংশপ্তক, এফ্লিক্স, এডমিশন প্লাস, এডমিরার, ইউএসি, ইউরেনাস, পিএসি, ইজ্ঞিনিয়ার্স। মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তির জন্য: উদ্ভাস কোচিং সেন্টারে রেটিনা, সানরাইজ, পিএসি, কর্নিয়া, ডিএমসি, মেডিকো, দি রয়াল, গ্রীন অ্যাডমিশন এইড, থ্রি ডক্টরস, ফেইম, প্রাইমেট, প্লাজমা, এভিস ও মেডিকেয়ার। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য: উদ্ভাস, সানরাইজ, পিএপি, ওমেকা, মেরিনভ। একাডেমিক কোচিং সেন্টার: সানরাইজ, ডিভাইন, উদ্ভাস, ম্যাবস, অপরাজিতা, আইডিয়াল একাডেমি, রিয়াল, সেন্ট তেরেসা, অন্বেষা, ফেইম, মবিডিক, ক্রিয়েটিভ, উদ্দীপন, ই-হক, বিইউপি, সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড, দুরন্ত, অভিযাত্রিক। বিভিন্ন ভাষা শেখার জন্য: সাইফুর’স, এফএম মেথড, ইংলিশ ওয়ার্ল্ড, ব্রিজ কাউন্সিল, সুগন্ধা, হোপ, টার্গেট, নজরুল, ওয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, হিলস, এজিসিসি, ওরি, গ্লোবাল, লীডার, ইংলিশ সেন্টার, এলফিক্স, বিজয়, সিডি মিডিয়া, লিবার্টি ইংলিশ। বিসিএস অন্যান্য চাকরির জন্য: কনফিডেন্স, বীকন, ওরাকল, ক্যারিয়ার এইড, এইউএপি, সাকসেস, সুগন্ধা, হোপ, বিসিএস আপগ্রেড, ওয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, ইউনিটি, গ্লোবাল প্রফেশনাল একাডেমি, ডিফেন্স গাইড, প্রাইম একাডেমি। টেক্সটাইল ও ক্যাডেট কোচিংয়ের জন্য: ভয়েজ, মিরপুর ক্যাডেট কোর্চিং, মেরিন গাইড, অ্যাডমিরার, বর্ণ, ইম্যাক।

সংবাদ শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

BengalTimesNews.com