বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

ইয়াবা সম্রাজ্ঞী পারুল গ্রেফতার

Oprad-ppদেশের দেহখোর ও নারীখোরদের মনোবৃত্তির প্রধান উপাদান ইয়াবা। তাই এ সামগ্রীর ব্যবসায় কম পুঁজিতে লাভ প্রচুর। আর এ কারণেই কায়েমী দেহপসারিনী পারুল বেগম (৩৬) জড়িয়ে পড়েছিল ইয়াবা বানিজ্যে। কিন্তু বেরসিক র‌্যাব তাকে পাঠিয়েদিল শ্রীঘরে,জেলখানার অন্ধকার প্রকুষ্টে। গত ৪ ডিসেম্বর ৩৫০ পিস ইয়াবাসহ র‌্যাব-৯ এর একটি অভিযানিক দল নগরীর দরগা গেইটস্থ পায়রা গলির ৭১ নং বাসার ২য় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে আটক করে।
একটি মাত্র কন্যাসন্তানের জননী পারুল বেগম গত ৪ডিসম্বের ধরা পড়ার পূর্ব পর্যন্ত সেলিম মিয়ার স্ত্রী পারুল বেগম নামে পরিচিত ছিল। ধরা পড়ার পর র‌্যাবের কাছে তার নাম দিয়েছে পারভীন আকতার এবং স্বামীর নাম দিয়েছে আব্দুল মতিন।
স্থায়ী ঠিকানা দিয়েছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানার যুগীরগাঁও। অথচ এর আগে এ বছরের ১৭মার্চ যখন ২হাজার ২শ’ পিস ইয়াবসহ ধরা পড়েছিল সিলেট কোতোয়ালী থানা পুলিশের হাতে, তখন,সে তার নাম দিয়েছিল পারুল বেগম এবং স্বামীর নাম দিয়েছিল সেলিম মিয়া। সে সময় ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ইয়াবার চালানসহ ছাড়া পেয়েছিল থানা থেকে। কুখ্যাত এই ইয়াবা সম্রাজ্ঞীর নাম-পরিচয়ের কোন ঠিক-ঠিকানা নেই। নেই তার স্বামীর সটিক পরিচয়। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামের পরিচয়পত্র ও কাগজাত তৈরী করিয়ে পরিচয় দিয়ে থাকে সে।
মাদক ও ইয়াবা সম্রাজ্ঞী ওই নারী একসময় পারুল নামে করতো নিজ দেহের ব্যবসা। টাকার বিনিময়ে মনোরঞ্জন করতো অভিজাত ও নারীবিলাসী কামুকদের। পরবর্তীতে রূপযৌবনে ভাটা পড়ে খদ্দেরদের আকর্ষন হারিয়ে ফেলায় সে ইয়াবা সম্রাজ্ঞী ও পতিতা সর্দারনী হিসেবে আবির্ভুত হয়। তার একমাত্র মেয়েকেও জড়িয়ে দেয় দেহ ব্যবসা ও মনোরঞ্জনে। নিজের বদলে পুরনো খদ্দেরদের কাছে তুলে দিতো তার মেয়েকে। বিভন্নস্থান থেকে নিয়ে আসা তরুণী ও কিশোরীদের ।
শুধু তাই নয় তার ভাই আব্দুস সোবহান ও আব্দুল আজিজও নারীদেহের ব্যবসায় সম্পৃক্ত। নগরী ও আশপাশ এলাকার বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে কামুকদের জন্য রূপবান তরুণী কিশোরী ও নিশিবালাদের সরবরাহই তার এ দুই ভাইয়ের একমাত্র কাজ। আব্দুস সোবহান তার দরগাহ মহল্লাস্থ বাসায় থাকে এবং আব্দুর আজিজ প্রত্যহ গ্রাম থেকে এসে নারী সরবরাহের এ ঘৃন্য কাজ করে থাকে। দেহব্যবসায়ী ও ইয়াবা সম্রাজ্ঞী পারুল বেগম ওরফে পারভীন আক্তারের কারনে পবিত্র দরগা মহল্লা অপবিত্র মহল্লায় পরিনত হয়ে পড়েছিল। নানাবিধ অজ্ঞাত কারণে প্রশাসনের পদস্থ কর্তা-ব্যক্তিদের সাথে ছিল তার গভীর সখ্যতা ও মধুর সম্পর্ক। তাই তার এহেন গর্হিত কাজ ও ব্যবসার প্রতিবাদ করতে সাহস পেতো না কেউই। পারুল ওরফে পারভীন গত ৪ ডিসেম্বর র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ায় এলাকার জনমনে খানিকটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকার শান্তিকামী ও ধর্মপ্রাণ মানুষজন দেহব্যবসায়ী ও ইয়াবা সম্রাজ্ঞী পারুল ওরফে পারভীন বেগমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদ শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

BengalTimesNews.com