বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

মৌলভীবাজার আ.লীগের কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতি; ফের ক্রোধ

imagesওমর ফারুক নাঈম, মৌলভীবাজার :: ত্যাগী নেতারা আওয়ামীলীগের দু:সময়ে ছিলেন পাশে। আন্দোলন করেছেন। হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন। কেউ কারাবরণও করেছে। কেউ আবার ছাত্রলীগের সুসংগঠক।স্কুল-কলেজে জীবনেও দলের জন্য কাজ করেছেন। কলেজেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। এমনকি প্রবাসেও কাজ করেছেন দলের জন্য। বর্তমানে এলাকার মানুষের উন্নয়নে কাজ করছেন। কিন্তু বর্তমানে স্থান পাচ্ছেন না প্রাণের আওয়ামীলীগের কমিটিতে। বরাবরই হচ্ছেন কোণঠাসা।

মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগে আবারও নেতাকর্মীদের মাঝে ক্রোধ এবং বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত ১১ বছর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছিল মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগ। ফলে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এই সংকট নিরসনে গত বছর ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় জেলা সম্মেলন। নেছার আহমদকে সভাপতি ও মিছবাহুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ ছাড়া মুহিবুর রহমান তরফদার, হুইপ শাহাব উদ্দিন ও আজমল হোসেনকে সহ-সভাপতি। মেয়র ফজলুর রহমান, কামাল হোসেন ও নওশেদ আলী খোকনকে যুগ্ম সম্পাদক। রাধা পদ দেব সজলকে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মো. ফিরোজকে জাতীয় পরিষদের সদস্য ঘোষণা করা হয়। এই আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা তৈরি করে কেন্দ্রে জমা দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে। দীর্ঘদিন পর জেলা আওয়ামীলীগে উঠেছিল ঐকের সূর। কিন্তু প্রস্তাবিত নতুন কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে আবারও ক্রোধ সৃষ্টি এবং বিভক্তির আবাস মিলছে।

অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্টরা পুরনো কমিটির অনেক ত্যাগী নেতাকে বাদ দিয়ে নিজেদের আত্মীয় স্বজনকে প্রাধান্য দিয়ে একটি তালিকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেন। এ তালিকার ১৮ জনই একে অপরের নিকটাত্মীয়। তাদের মধ্যে কেউ আপন ভাই, ভাগ্নে, ভাতিজা বা শ্যালক। নতুন কমিটিতে প্রস্তাবিত নেতাদের নাম ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় জেলা আওয়ামীলীগে।

আরোও অভিযোগ ওঠে বাণিজ্যিকরণের এবং প্রবাসে ও দেশে বসবাস করে দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করছেন তাদের প্রবাসী দোহাই দিয়ে কমিটিতে রাখা হয়নি। দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষে এ বিষয়ে আপত্তি করেও সুরাহা পাননি স্থানীয় সংসদ সদস্য।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রস্তাবিত কমিটির তালিকাতে সভাপতি ও সম্পাদকের বেশ ক’জন করে আত্মীয় রয়েছেন এমন দাবি বঞ্চিতদের। নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমানের মামাতো ভাই সাংগঠনিক পদে প্রস্তাবিত সৈয়দ মনসুর আহম্মেদ, সদস্য পদে সৈয়দ রেজাউল করিম সুমন, সৈয়দ জয়নাল আবেদীন কুটি। যুগ্ম সম্পাদক মেয়র ফজলুর রহমানের চাচা সহ-সভাপতি পদে গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, সদস্য পদে আকবর আলী ও আজিজুর রহমান। সদস্য পদে প্রবীণ রাজনীতিবিদ আজিজুর রহমানের ভাতিজা নাহিদ আহম্মদ ও সজীব হাসান। ঘোষিত সহ-সভাপতি মুহিবুর রহমান তরফদারের ভাই সদস্য পদে আবদুল বাছিত তরফদার। জাতীয় পরিষদের সদস্য মো: ফিরোজের ভাগ্নে আনকার আহম্মদ। সহ-সভাপতি পদে মাসুদ আহমদ এবং সদস্য পদে মাসুদ আহমদের স্ত্রীর বড় ভাই হায়দার আলীর নাম। আর ঘোষিত এ কমিটির মধ্যে সভাপতি নেছার আহমদের ভায়রা ভাই সহ-সভাপতি আজমল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদ মিছবাহুর রহমানের ভাগ্নে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র ফজলুর রহমান।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার ৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসীন বলেন, আমি এলাকার এমপি হওয়ার পরও যারা পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করেছেন তারা আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি। আমি সভাপতিকে জিজ্ঞাসা করলে আমাকে জানান কমিটির তালিকা কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন। সায়রা মহসীন অভিযোগ করে বলেন, দাখিলকৃত তালিকা সঠিকভাবে হয়নি। স্থান হয়নি পরীক্ষিত ত্যাগী অনেক নেতার। ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে সভাপতি-সম্পাদক মিলে আত্মীয়-স্বজনদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান বলেন, প্রয়াত সৈয়দ মহসীন আলী আমার মামা সেই সূত্রে সৈয়দা সায়রা মহসীন এমপি আমার মামি। সায়রা মহসিনের অভিযোগ সঠিক নয়। সভাপতি-সম্পাদকসহ ১১ জনকে দিয়ে কমিটি ঘোষণা আমরা নই, কেন্দ্র করেছে।

কেন্দ্রের দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, তালিকা পাঠালেও এখনও তো চূড়ান্ত অনুমোদন হয়নি। যাদের নাম পাঠানো হয়েছে তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। তারপরই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হবে। ত্যাগী নেতারা অবশ্যই মূল্যায়ন পাবে।

সংবাদ শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

BengalTimesNews.com