দেশের রাজনীতি এখন বিদেশমুখী
মঙ্গলবার, ২১ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

দেশের রাজনীতি এখন বিদেশমুখী

1519918005হাবীব রহমান ও মোজাম্মেল হক তুহিনঃ
রাজনীতিতে কোণঠাসা বিএনপি এবার আন্তর্জাতিক মহলের দ্বারস্থ হচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগও তার মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।
সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে একাদশ সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সরকারের ওপর ‘চাপ’ সৃষ্টির জন্য জাতিসংঘের ‘সহায়তা’ চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টে বুধবার চিঠি পাঠিয়েছে দলটি।
এদিকে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আমন্ত্রণে আগামী ১০ থেকে ১৪ মার্চ ভারত সফর করবে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। ২০ সদস্যের এ দলের নেতৃত্ব দেবেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ১১ মার্চ রাষ্ট্রীয় সফরে দিল্লিতে আন্তর্জাতিক সৌর জোটের (ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স) শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। শুরুতে এ আমন্ত্রণটি এসেছিল প্রধানমন্ত্রীর জন্য। কিন্তু একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় সফরে সিঙ্গাপুরে থাকবেন। তাই ভারতের এ সামিটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতি ও আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের ভারত সফরের পরপরই মার্চেই ভারতের নতুন পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেসব গোখলে দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসবেন।
ভারত থেকে দেশে ফেরার পরপরই আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল চীন যেতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে পশ্চিমা ক‚টনীতিকদের দৌড়ঝাঁপও লক্ষণীয়।
কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ বিএনপির
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে সরকারের ওপর ক‚টনৈতিক চাপ বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে দলটি। চিঠিতে সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘মিথ্যা’ ও ‘ভিত্তিহীন’ মামলায় সাজা দিয়ে কারাবন্দি করে তাকে এবং বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছে। ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া শেপুর মাধ্যমে মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বরাবর এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত এবং কমনওয়েলথ পার্লামেন্টের বিশেষ দূতের কাছেও একই ধরনের চিঠি দিয়েছে বিএনপি। দলের আন্তর্জাতিক উইংয়ের নেতাদের মাধ্যমে এসব চিঠি পাঠানো হয়। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলটির এসব তৎপরতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের কাছে কিছু জানানো হয়নি। এ নিয়ে প্রকাশ্যে বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতাই মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার বৃহস্পতিবার রাতে আজকালের খবরকে দলের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এর বিষয়বস্তু বা অন্য কোনো বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
বিএনপির কূটনৈতিক উইংয়ে সম্পৃক্ত এমন একজন নেতা নাম প্রকাশে অপারগতা জানিয়ে বৃহস্পতিবার আজকালের খবরকে বলেন, ‘সরকার আবারও একটি একতরফা নির্বাচন করার নানা নীলনকশা প্রণয়ন করেছে। মিথ্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাজা প্রদান ও আইনি প্রক্রিয়ার নামে তার কারাবন্দিকে দীর্ঘায়িত করা সেই চক্রান্তের বড় অংশ। এসব ষড়যন্ত্র থেকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শরণাপন্ন হওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদিও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত। তারপরও দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভ‚মিকা দেশের জনগণের প্রত্যাশা। এসব বিষয়ই চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে।’
বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে বাংলাদেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিত দাবি করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে জোরালো ভ‚মিকা রাখতে জাতিসংঘকে অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠিতে চলমান সংকট নিরসনে বিএনপি যে সংলাপের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান চায়, সেটিও স্পষ্ট করা হয়েছে। আর এজন্য সরকারকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অন্য দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসতে চাপ দেওয়া এবং দূতিয়ালি করতে সংস্থাটির একজন প্রতিনিধিকে বাংলাদেশে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, ‘চিঠিতে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি, আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধাসহ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।
একইসঙ্গে চিঠিতে নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হলে নির্বাচনের আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেওয়া প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ইসিকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পরামর্শ দেওয়ার জন্যও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে অনুরোধ করেছে বিএনপি।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের আগেও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য জাতিসংঘের মধ্যস্থতা চেয়েছিল বিএনপি। ওই সময় বিএনপির আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করেছিলেন। সমঝোতা করতে জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূত ও সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো ঢাকা এসেছিলেন। তিনি বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে একাধিকবার বৈঠকও করেছিলেন। দুই দলের সমঝোতায় ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান তারানকো। বিএনপি ওই নির্বাচন বর্জন করলেও সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ। এরপর থেকেই বিএনপি সেই নির্বাচনকে ‘বিতর্কিত’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অভিযোগ করে আসছে।
একাদশ নির্বাচনের বছরে এসে দলটি আবারও ক‚টনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। এ তৎপরতার অংশ হিসেবে গত কয়েক মাসে দলটি বাংলাদেশে নিযুক্ত ক‚টনৈতিক ও দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছে। জেলে যাওয়ার আগে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও ক‚টনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে জোরালো অবস্থান প্রত্যাশা করেন।
এদিকে প্রধান বিরোধী দলের এমন কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো আজকালের খবরকে জানায়, বিএনপির এমন তৎপরতা নিয়ে তারা মোটেও চিন্তিত নয়। তাদের দাবি, তারা গণতন্ত্র ও সংবিধানের পথেই আছেন। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা আজকালের খবরকে বলেন, বৈশ্বিক রাজনীতিতে বিগত কয়েক বছরে অনেক মেরুকরণ হয়েছে। এখন বিশ্বে কোনো একক মোড়ল নেই। আওয়ামী লীগ তার সুবিধামতো মিত্রদের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রেখে চলছে।
খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে ওই নেতা বলেন, পাকিস্তানে সিটিং প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হয়েছেন। দলীয় পদ হারিয়েছেন। বহির্বিশ্ব কোনো দেশের আদালতের বিষয়ে মুখ খুলে কিছু বলতে চায় না। আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী বা সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা কোনোটাই নন। দুর্নীতির মামলায় নিম্ন আদালতে তিনি দণ্ডিত হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের ভারত সফর
গত বছরের জুনে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। পরে ৯ অক্টোবর নদীবিষয়ক এক সেমিনারে যোগ দিতে ঢাকায় এসে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও একই আমন্ত্রণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন রাম মাধব। সে আমন্ত্রণ রক্ষার্থেই আওয়ামী লীগ নেতারা ভারত যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ আজকালের খবরকে জানিয়েছেন, এরই মধ্যে সফরের আনুষ্ঠানিকতা চ‚ড়ান্ত হয়েছে।
এদিকে সফরের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনে ২০ নেতার একটি তালিকা পাঠিয়েছে আওয়ামী লীগ। ওবায়দুল কাদের ও মাহবুবউল আলম হানিফ ছাড়াও প্রতিনিধি দলে আরও থাকছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, অ্যাডভোকেট মিছবাহউদ্দিন সিরাজ, এ কে এম এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম প্রমুখ।
চলতি বছরেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের এ ভারত সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মূলত দুই দেশের সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সফর হলেও সেখানে রাজনৈতিক বিষয়গুলোও প্রাধান্য পাবে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন নেতা। পাঁচ দিনের এ সফরে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক অবস্থা ও গতিপ্রকৃতি, আগামী নির্বাচন এবং দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাদÐ ছাড়াও দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
৯ মার্চ দিল্লি যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
মার্চের ৯ তারিখে ভারত সফরে যাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দিল্লিতে আন্তর্জাতিক সৌর জোটের (ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স) শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। ১১ মার্চের সামিটে যোগ দিতে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভারত সফরে যাবেন তিনি।
জানা যায়, এ সামিটে যোগ দেওয়ার জন্য কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সময়ে অন্য একটি দ্বিপাক্ষিক সফর নিয়ে সিঙ্গাপুরে ব্যস্ত থাকবেন বলে ভারতে যেতে পারছেন না। তাই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদই প্রতিনিধিত্ব করবেন। তিনি ওই সামিটের দুই দিন আগে, ৯ মার্চ ভারতে যাবেন, তবে সরাসরি দিল্লিতে নয়, তিনি যাবেন উত্তর-পূর্ব ভারতের আসামের গৌহাটি হয়ে।
ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স বা আইএসএ নামে ওই জোটের শীর্ষ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে। এ জোটটির অবতারণা করা হয়েছিল ২০১৭-তে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের সময়। এই জোট গঠনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা নিয়েছিল ভারত ও ফ্রান্স। দিল্লিতেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এডোয়ার্ড ফিলিপ যৌথভাবে এ সামিট ‘হোস্ট’ করবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে সম্মেলনে যোগ দেবেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এছাড়া থাকবেন আরও প্রায় ৫০ দেশের সরকারপ্রধান বা মন্ত্রীরা। রাষ্ট্রপতি হামিদের ভারত সফরে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া সামিটে অংশগ্রহণকারী আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার আলাদা বৈঠক হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
সব দলকে নির্বাচনে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা চান তোফায়েল
বিএনপিকে নিয়েই নির্বাচনে যেতে চায় আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠেয় আগামী জাতীয় নির্বাচনে সব দলকে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটকে ভ‚মিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়লে আহমদ।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়ার মতো গণতান্ত্রিক দেশে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা সবাই একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই, যেখানে সব রাজনৈতিক দল থাকবে।
রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে তোফায়েল আহমদ গতকাল এ আহ্বান জানান। এই অনুষ্ঠানে ২৫তম ইউএস ট্রেডশোর উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অ্যাডভোকেসি সেন্টারের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ম্যালকম বরুক উপস্থিত ছিলেন এ অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানের পর তোফায়েল আহমদের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মার্শা বার্নিকাট সাংবাদিকদের বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে শর্তগুলো কেবল ভোটের দিন নয়, সবসময়ই নিশ্চিত করতে হয়।
আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল বলেন, আমি জানি না, মন্তব্য করা আমার ঠিক হবে কি না। আমি আশা করব, আপনি (বার্নিকাট) এমন একটি ভ‚মিকা নেবেন, যাতে সব দল সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠেয় আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতায় রেখেই যে নির্বাচন হয়, সে কথাও তিনি মনে করিয়ে দেন।
তোফায়েল বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশেও আগামী নির্বাচনের সময় বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকবে এবং কেবল দৈনন্দিন রুটিন কাজগুলো করবে। নির্বাচনের আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করা ব্রিটিশ হাইকমিশনারকেও একই আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমি তাদের (যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য) অনুরোধ করব, তারা যেন সব দলকে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে বলেন।
সংবাদ শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

BengalTimesNews.com