বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

মহাপ্রভুর জন্মই মানুষের মঙ্গলার্থে

14681802_111788409292328_4011488922727348436_nমহাপুরুষরা যুগে যুগে এই পৃথিবীতে আসেন স্রষ্টার জন্য বোধ ও মানব জীবনের চৈতন্য ঘটাতে। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুও এমনই এক মহামানব।যার জীবন পানে চোখ রাখলে মানব কল্যানই ভেসে ওঠে।
পাঁচ শতাধিক বৎসর পূর্বে ঢাকাদক্ষিণেই মহাপ্রভু তাঁর মাতৃগর্ভে আবির্ভূত হন।দৈব স্বপ্নাদেশে গর্ভাবস্হায় শচিদেবীকে নিয়ে জগন্নাথ মিশ্র নবদ্বীপ  গমন করেন।বিদায়ের পূর্বে শচীদেবীকে শোভাদেবী অনুরোধ করেন যে, তাহার পুত্র হলে তাকে যেন একটি বার ঢাকাদক্ষিণে পাঠায়ে দেন।আর সেই গর্ভের সন্তানই শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু।
যার বাল্য নাম নিমাই।তিনিই শ্রী গৌরাঙ্গ আবার তিনিই গৌরসুন্দর গৌরহরি।
চৈত্র মাস এলেই মনে পরে যায় মহাপ্রভুর আবির্ভাবের কথা।যথাকালে শচীদেবী শ্বাশুড়ীর অনুরোধের কথা পুত্রকে জানিয়ে দিলে সন্ন্যাস গ্রহণের পর মাতৃ- আজ্ঞা পালনের নিমিত্ত পিতামহী শোভাদেবীর সুপবিত্র গৃহে স্বয়ং শুভ পদার্পন করেন চৈত্রমাসের কোন এক রবিবার। আর সে করণেই এ যাবৎ চৈত্র মাস ও চৈত্র মাসের রবিবার     মহাপ্রভুর বাড়ির আঙ্গিনায় ভক্তবৃন্দের মিলন মেলা ঘটে।
মহাপ্রভুর জীবন দর্শনে একান্ত ভাবে স্রষ্টারর ভজনার দিকনির্দেশনা দিয়ে যান।যা জাত পাত সব সমান স্তরে নিয়ে ভগবানের নৈকট্য লাভের কৌশল দিয়েযান।শ্রী শ্রী চৈতন্য চরিতামৃত গ্রন্হে সংসার জীবনের পাশাপশি ভগবানকে আরাধনার সুকৌশল ব্যাপ্তি ঘটিয়েছেন।
হরের্ণাম হরের্ণাম
হরের্ণামৈব কেবলম।
কলৌ নাস্হ্যেব নাস্হ্যেব
নাস্হ্যেব গতিরণ্যথা।।
এই মহা নামই কলিযুগের প্রত্যেক মানৃুষকে উদ্বার করবে।যাগ যজ্ঞ পূজা ইহকালের মন আনন্দ। পরকালের ভক্তি সঞ্চয় হল মহানাম।তিনি জীবনের শেষ ক্রান্তি লগ্নেও মধুর নাম বিলিয়ে গেছেন।যা চর যুগের অমৃত সুধা।সেই আমৃত মহানাম হলো-
” হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম”
রাম রাম হরে হরে”
শ্রীশ্রীমন্ শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুর এই জন্মতিথি ঘিরে সিলেটের ঢাকাদক্ষিণ মহাপ্রভুর বাড়িতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেড়মাস কালব্যাপী ধর্মীয় মহা- উৎসবের আয়োজন।
মহাপ্রভু ধরাধামে এসেছিলেন মানুষের মানবজীবন কীভাবে সার্থক করে গড়ে তোলা যায়।আর সেই পরিশ্রম আজো বৈষ্ণব  ধারার মধ্য দিয়ে প্রচেষ্টায় অব্যাহত। সকল সম্প্রদায় কে একনামে নিয়ে আসার চেষ্টারত ছিলেন মহাপ্রভু। এককথায় তাঁর জীবনকে উপলব্দি করলে দেখাযায়,যিনি মহাপ্রভু তিনিই কৃষ্ণ। আর শ্রীশ্রীচৈতন্য চরিতামৃত সেই কথাই বলে–
কৃষ্ণ বিনে সুখ দিতে
নাহি অন্য জন
থাকিলে বা বিদ্যাকূলে
কোটি কোটি ধন।
কলিযুগে’ ধর্ম ‘ হয়
হরিনাম সংকীর্ত্তন
এতদদর্থে অবতীর্ণ
শ্রী শচিনন্দন।।
এই মহানামই ত্রিগুনাত্বিকা প্রকৃত ব্রম্মেরই শক্তি।গুণধারি মহাজনরাই বুঝে নিয়ে জীবনকে সার্থক করে তুলেছেন।অতএব বৈষ্ণব কোরের জয় হোক।প্রতি গৃহে বৈষ্ণব মতাধর্ষে জীবন হোক সুন্দর।
” যে তীর্থে বৈষ্ণব নাই
সে তীর্থে নাহি যাই
কি লাভ হাটিয়া দূরদেশ,
যথায় বৈষ্ণবগণ
সেই স্হান বৃন্দাবন
সেই স্হানে আনন্দ অশেষ”।।
সুতরাং সংসার সাগর হইতে উত্তীর্ণ হবার আশ্রয় উত্তম দৃষ্টান্তকারির মহাপ্রভুর জন্ম উৎসব সার্থক হোক।৫৩৩ তম আবির্ভাব তিথি শ্রীশ্রী গৌর পূর্ণিমায় স্বাত্বিক মন নিয়ে মেথে উঠি সকল গুরুভ্রাতা,ভাই-ভগ্নি, ভক্তবৃন্দ সহ সকল সোনাতন ধর্মী মানৃুষ জন।প্রত্যেকে আন্তরিকতায় উদ্যাপিত করি মহানাম বিতরণের সেই মহাপুরুষকে।আমরা সবাই সংসার ধর্মের পাশাপাশি বিশ্বাস চিত্তে যেন হাটতে পারি সেই কল্যানের পথে।জয় মহাপ্রভু।

লেখক  : বিমল কর

সর্বশেষ সংবাদ