মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী (২০১৭) : শেখ হাসিনা “

29550316_1233578816775052_676468495_nহাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি,বিশ্বের অবিসংবাদিত  নেতা, বাঙালির স্বাধীনতা এনে  দেওয়ার মহান নায়ক  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা,একজন সফল রাষ্ট্র নায়ক, নারীর ক্ষমতায়নে বর্তমান বিশ্বের স্তম্ভ ও রোল মডেল জননেএী শেখ হাসিনা বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। এটা সমগ্র বাঙালি জাতির জন্য অনেক বড় এক প্রাপ্তি। এই অর্জনের মধ্যে দিয়ে এটা প্রমানিত হয়েছে যে বাঙালি নেতৃত্বের দিক দিয়েও বিশ্ব নেতাদের চেয়ে কম নয়। বরং মাথা উচুঁ করে দাড়িয়ে জানান দিচ্ছেন আমরাও আসছি আপনাদের সমপর্যায়ে
।বাঙালিরা আজ তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। ঐ ঝুড়িটা পূর্ণ হচ্ছে একের পর এক সফলতা দিয়ে। ১৭ ই মার্চ ২০১৮, আমরা আরেকটা খুঁশির সংবাদ পেয়েছিলাম। জাতিসংঘ ঘোষনা দিয়েছে বাংলাদেশ এখন আর স্বল্প উন্নত দেশ নয়। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর এই প্রত্যেকটা সফলতার  পেছনে যার সুনিপুণ হাত রয়েছে তিনি হলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের উন্নয়নের চিএটা তিনি পাল্টে দিয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে  মত পার্থক্য থাকতে পারে  কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অনেক বড় বড় সফলতা যুক্ত হয়েছে দেশের জন্য  যেমন স্থলসীমা বিজয়,সমুদ্র বিজয়, জাতির জনকের হত্যার বিচার, যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার, খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ, খেলাধুলায় ব্যাপক  উন্নয়ন, সাক্ষরতার হার ৭২.৭৬ শতাংশ,  স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক পরিবর্তন, প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন, প্রত্যেকটা বাহিনীকে শক্তিশালীকরণ,প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা, পদ্মা সেতু নির্মান, বিশ্ব মন্দায় অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখার মত  সফলতা। আর জঙ্গিবাদ দমনে তিনি দেখিয়েছেন সাহসিকতা। আমেরিকা, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যের মত বড় বড় রাষ্ট্রগুলো যখন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ ছিল জিরো টলারেন্সে। তিনি সব সময়ই বলে থাকেন, বাংলাদেশে কোন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের স্থান নেই। যারা দেশ  ও মানবতার শএু তাদের সাথে কোন আপোস নেই। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে তিনি বিশ্ববাসীকে এক সাথে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন। প্রত্যেকটা জায়গায় উনার দৃষ্টি ও স্পর্শ রয়েছে।
মায়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্যাতিত রোহিঙ্গা ইস্যুতেও তিনি মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন । ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাদের তিনি আশ্রয় দিয়েছেন। বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা যখন বলাবলি করছিলেন, আমাদের মত ছোট দেশের  এত মানুষের দায়িত্ব নেওয়া কি সম্ভব। তখন তিনি সাহস করে  বলেছিলেন ১৬ কোটি বাঙালিকে যখন খাওয়াতে পারছি তখন ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাকেও খাওয়াতে  পারবো। বিশ্বের বড় বড়  রাষ্ট্রগুলোর যেখানে দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল সেখানে তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি রোহিঙ্গাদেরকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য জাতিসংঘে বক্তব্য রেখেছেন ও বিশ্ব নেতাদের আহবান জানিয়েছেন তাদের পাশে দাড়ানোর জন্য ও মায়ানমারকে চাপ দেওয়ার জন্য। ইতিমধ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে  ১ কোটি বাঙালিকে আশ্রয় দিয়ে ভারত যে মানবতা দেখিয়েছিল। আজ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ দেখিয়েছে মানবতা প্রকাশে আমরাও কম নই। সুযোগ পেলে আমরাও ঋন পরিশোধ করে দিতে পারি।
তিনি যেখানেই হাত দেন  সেখানেই ভাল কিছু ঘটে ।
বিশ্ব নেতৃত্ববৃন্দ  বুঝতে পারছেন তাঁর রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিকতার ক্ষেএে সুদুর প্রসারি চিন্তা- চেতনা, বিচক্ষণতা, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তাকে। তিনি দিনের পর দিন নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। তিনি তার মেধা  সততা,পরিশ্রম, অধ্যাবসায়,দলের প্রতি আনুগত্যতা, জনগনের প্রতি ভালবাসা ও দেশপ্রেমকে সম্বল করে আজ এক অনন্য উচ্চতায় পৌছে গেছেন। বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানরা তার ভূয়সী প্রশংসা করছেন। তিনি বর্তমানে শুধু দেশের  নেতা নয় বিশ্ব নেতৃত্বের একজন তুখুর স্পষ্টভাষী সাহসি নেতা। যিনি আমাদের দেশের মত সমালোচনার অভয়ারণ্যে থেকেও এগিয়ে যাচ্ছেন মাথা উঁচু করে।সব দিক থেকে বিবেচনা করেই তিনি নির্বাচিত হয়েছেন বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী। বিশ্ববাসী তার নেতৃত্বের কতটা মুগ্ধ হলে এ  উপাদি দিতে পেরেছেন। এভাবে চলতে থাকলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না তিনি বিশ্বের প্রথম প্রধানমন্ত্রীও হতে পারেন। প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সব রকমের যোগ্যতাই তিনি ধারন করেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মত পার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু এ রকম একটি খু্ঁশির সংবাদে সবার উচিত প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানো। কারন এটা যেকোনো রাজনৈতিক দলেরই বড়  অর্জন। আজ সরকার দল কাল বিরোধী হতে পারে। আবার আজ বিরোধী দল কাল সরকার দল হতে পারে। তাই এ ধরনের রাষ্ট্রীয় অর্জনকে সব দলের অভিনন্দন জানানো দরকার। এটা শুধু ব্যক্তির অর্জন না পুরো রাজনীতির অর্জন।
সদা হাস্যজ্জ্বল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আমরা কয়েক জন মিলে ২১শে বইমেলা ২০১৮ তে ‘শেখ হাসিনার উক্তি, বাঙালির শক্তি নামে ‘ একটি বই সংকলন করেছিলাম। আজ আমরা এই নামকরনের সার্থকতা খু্ঁজে পেলাম। বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত  হলো তিনি কতটা শক্তিশালী সরকার প্রধান। উনার প্রতিটা কথার মধ্যে যেন কোনো শক্তি লুকায়িত রয়েছে। বিশ্ববাসীও যেন প্রেরণা খুঁজে পাচ্ছে। এভাবেই তিনি তার নেতৃত্ব গুণ  সবার মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তিনি সত্যিই একজন কারিশমেটিক লিডার সমস্ত সেক্টরকে আগলে ধরে রেখেছেন। বর্তমান সময়ে যেখানে আমাদের সামাজিক চার পাঁচ ভাইয়ের বড় পরিবারগুলো একএে চালানো কষ্টের ব্যাপার। পরিবারগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে। সব এক কেন্দ্রীক পরিবার হয়ে যাচ্ছে। সেখানে ১৬ কোটি বাঙালির চাহিদা মিটিয়ে সবাইকে একএে রাখা কতটা কঠিন কাজ যিনি করছেন তিনি বুঝতে পারছেন। যারা বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা করেন  তাদের উপলব্দিতে  নিয়ে আসা উচিত যেখানে আমরা পরিবারের সবার মন রক্ষা করতে পারিনা সেখানে শুধু কথা দিয়ে  রাষ্ট্রের চাহিদা কি মেটাতে পারবো। সুতরাং সমালোচনার আগে ভাবা উচিত। আর সমালোচনা অবশ্যই হবে সেটা হবে গঠনমূলক সমালোচনা। সমালোচনা জীবনের অংশ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি এগিয়ে যান ১৬ কোটি বাঙালি আপনার পাশে রয়েছে। কিন্তু তারপরেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন থেকে যায়। সবাই কি থাকবে আপনার পাশে। ইংরেজি লেখক ফ্র্যান্সিস বেকনের একটি উক্তি  দিয়ে শেষ করতে চাই, তিনি বলেছিলেন কোন রাষ্ট্রের বা প্রতিষ্ঠানের পদ ও পদবি মানুুষকে অনেক বড় করে কিন্তু ঐ পদ ও পদবি দিয়ে সবার মন রক্ষা করা যায় না কিছু মানুষ প্রকৃতিগত ভাবেই বিপক্ষে চলে যায়। সুতরাং সবাই আপনার পক্ষে নাও থাকতে পারে কিন্তু আপনি আপনার কাজ চালিয়ে যান। আপনার মাধ্যমে দেশ আরো এগিয়ে যাক। জয় হউক আপনার, জয় হউক মুক্তিযোদ্ধাদের, জয় হউক খেটে -খাওয়া পরিশ্রমী সাধারন মানুষদের, জয় হউক বাঙালির চেতনার।

অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি
লেখক, কলামিস্ট,সাংবাদিক

সংবাদ শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

BengalTimesNews.com