মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

পতনউষারের একজন কামরুল আই রাসেল ও কিছু কথা

DSC_5150

সোহেল আহমদ :: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার ইউনিয়নের ধোপাটিলা গ্রামের সন্তান কামরুল আই রাসেল। এক বর্ণাঢ্য ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান তিনি। বহু প্রতিভাময় এই মানুষটি জীবনের প্রতিটি স্বাদ-ই উপভোগ করাই যেন তার নেশা। কিশোর বয়সেই সংস্কৃতি জগতে ছিল তার মোহ। ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পতনউষার উচ্চ বিদ্যালয়েই তার লেখাপাড়া। শহুরে জীবনের প্রতি আকৃষ্ট থাকায় ৩০৬ আউলিয়ার স্মৃতি বিজড়িত আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটের দি এইডেড হাই স্কুলের ৮ম শ্রেণীতে ভর্তির মধ্য দিয়ে শহুরে জীবনে প্রবেশ। ছাত্র রাজনীতি ও আর সংস্কৃতি চর্চাই যেন তার মুখ্য হয়ে ওঠে। একাধারে যেমন ছিলেন গীতিকার, নাট্যকার, লেখক, অভিনেতা, নাট্য পরিচালক, আস্তে আস্তে গড়ে তুলেন ক্যাসেট কোম্পানী (স্টার লিং প্রডাকশন, মিডিয়া লিংক প্রডাকশন, রাসেল ডট কম)। তার রচনা ও পরিচালনা এবং অভিনয়ে সিলেটের আঞ্চলিক অনেক নাটকের নাম আজও মানুষের মুখে মুখে। যেমন- মামু বশির, কেরামতের কেরামতি, নয়ন কান্দে, বিলা মফিজ, মিনতি মিউজি ভিডিও উল্লেখযোগ্য। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন সফল প্রযোজক হিসেবে। তার প্রমোটে জাতীয় অনেক শিল্পীরাও শো তে অংশগ্রহণ করেছেন যুক্তরাজ্যে।

অভিনেতা হিসেবে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সিলেটী টিভি চ্যানেল এস-এ ইশিতা টেলিমিডিয়ার প্রযোজনায় একদেড়শ এক ঘন্টার নাটকের হিরো ছিলেন তিনি। পাশাপাশি ১০৪ পর্ব, ৫২ পর্ব, ২৬ পর্ব ছাড়াও অনেক সিরিয়াল নাটকের মূখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন। যা এখনও ইউরোপে অবস্থানরত বাঙ্গালীদের কাছে তিনি অনেক জনপ্রিয়। কবির বাবুর পরিচালনায় জাতীয় পর্যায়ে অভিনয় করেন সেলিনা রহমানের কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বে এটিএন বাংলার মেগাসিরিয়াল ‘কাঠ কয়লা ছবি’-তে। চিত্র পরিচালক জি সরকারের পরিচালনায় টমি মিয়ার ক্রিকেট একাডেমীর প্রযোজনায় চিত্র নায়ক সাকিব খানের সাথে বাংলা চলচ্চিত্র ‘বেঙ্গল টাইগার’ ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হন টমি মিয়া ক্রিকেট একাডেমীর সাথে (যদিও ফিল্মটি পূর্ণ স্যুটিং সম্পন্ন হয়নি)।
২০১০ সালে ভারতের তৎকালীন কংগ্রেস নেতা ইকবাল হোসেনের নির্বাচনীয় জনসভায় (বর্তমান বিজিপি মাইনোরিটি মুর্চার সাধারণ সম্পাদক আসাম প্রদেশ) একটি সাংস্কৃতিক দল নিয়ে বিদেশ যাত্রা হিসেবে প্রথম শো করতে আমন্ত্রিত হন ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলায়। তার প্রমোটে সেখানকার স্টেইজ শোতে ঢাকা ও সিলেটের শিল্পীদের পারফন্সমেন্সে কয়েক লাখ দর্শকের সমাগম ঘটে। এতো লোকের সমাগমে আসামের স্থানীয় বিভিন্ন টিভি মিডিয়া ও কাগজে তাকে নিয়ে সাক্ষাৎকার প্রকাশ হয়। খোদ আসাম রাজ্য কংগ্রেসের মহাসচিব জনাব এম এইচ চৌধুরীর পক্ষ থেকে গোয়াহাটিতে ডিনারের দাওয়াত গ্রহণ করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ইন্দো-বাংলা বাণিজ্য মেলায় পূর্ব ভারতের ৭টি প্রদেশের কেবিনেট মন্ত্রীগণ আমন্ত্রিত হলে আসাম প্রদেশের মন্ত্রীগণের বাংলাদেশী লোকাল গাইড হিসেবে কামরুল আই রাসেলকে দায়িত্ব দেন জনাব এমএইচ চৌধুরী। সে সময়ে বিদেশী রাজনীতিবিদদের কাছে একজন দক্ষ গাইড হিসেবে তাদের মন জয় করতে সক্ষম হন তিনি। সেই থেকে পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের স্নেহের পাত্র হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা কুরান তিনি। ভারতের আসাম রাজ্যের (বিজেপি)’র স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিমন্ত— বিশ্ব শর্মা, সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডাঃ নজরুল ইসলাম, সাবেক বন ও পঞ্চায়েত মন্ত্রী রকিবুল ইসলাম, সাবেক খনিজ মন্ত্রী চন্দন সরকার, অল ইন্ডিয়া মাইনোরিটি সভাপতি মোস্তফা শহীদুল ইসলাম এমএলএ, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক এমপি দিগেন শর্মা, প্রদেশ সংগ্রেসের সেক্রেটারী শৈলেন বড়া সহ অনেকেরই ভালোবাসা বিদ্যামান আজও তার প্রতি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জনাব সৈয়দ মহসিন আলী ও আসাম কংগ্রেসের মহাসচিব জনাব এম এইচ চৌধুরীর সম্পর্কের সেতুবন্ধনের উদ্যোক্তাও তিনি। আসাম-সিলেটের সুসম্পর্কের মাঝে যোগ হয় এক নতুন মাত্রা। ছাত্র রাজনীতিতে ছিলেন দলছুট। বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জনাব সৈয়দ মহসিন আলীর সুনজরে মন্ত্রী নিজেই বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু সুব্রত পুরস্কায়স্থের স্মরণাপন্ন করেন তাকে। বাবু সুব্রত পুরকায়স্থ ও সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জনাব আফতাব হোসেন খানের রাজনৈতিক দোয়া ও আর্শিবাদে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক মনোনীত হন তিনি। মহানগরের প্রথম সারির একজন যুব নেতা হিসেবে সিলেটের রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং সাংবাদিকতায় রয়েছে তার বিশেষ অবদান। বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির মৌলভীবাজার জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আনহার আহমদ সমশাদ ও তিনি মিলে গড়ে তোলেন বহুল প্রচারিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বেঙ্গল টাইম নিউজ ডটকম। যার নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন কামরুল আই রাসেল।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রয়েছে তার সুনাম। ভারতের সর্বোচ্চ ২য় বৃহত্তম ফুটবল টুর্নামেন্ট ৬৪তম ভারত রতœ বরদলই ট্রফিতে সিলেট অগ্রগামী ক্লাবের টিম ম্যানেজার হিসেবে তার নেতৃত্বে সিলেট থেকে প্রথম কোন ফুটবল দল অংশগ্রহণ করে গোহাটি জহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে। ইস্ট বেঙ্গলের মতো শক্তিশালি ক্লাবের মুখোমুখি হয়েও সিলেট অগ্রগামী ক্লাব বরদলই ট্রফি র‌্যাংকিং এ সপ্তম স্থান অধিকার করে।

পারিবারিক পরিচিতি ::
কামরুল আই রাসেলের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম ১৯৫৩ সালের ২১ জানুয়ারি কমলগঞ্জ উপজেলার শমশের নগরে (বর্তমান পুলিশ পাড়ী, স্বাধীনতার পুর্বে আর্মি কোয়াটার) জন্মগ্রহন করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের ৪নং সেক্টরে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘ মিশনে অংশগ্রহন করেন। সেনাবাহিনী থেকে আবসরের গ্রহনের পরে থেমে রাখেননি নিজেকে রেখেছেন সমাজসেবায় সক্রিয়, রাজনীতিতে করেছিলেন নিজেকে উৎসর্গ। তৎকালীন পতনউষারে আওয়ামীলীগের ক্লান্তিকাল চলছিল পেয়েছিলেন পতনউষার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব। কঠোর পরিশ্রম ত্যাগের মধ্যে দিয়ে (এমন পকেটে ১০ টাকা নিয়ে বের হতে সংগঠনের জন্য ব্যয় করে রাতে খালি হাতে বাড়ী আসতেন) নিজেকে করেছিলেন সমর্পন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতায় পতনউষারে আওয়ামীলীগ শক্তিশালী হয়েছিল সু সংগঠিত। সাবেক সেনা সদস্য হওয়াতে আওয়ামী পরিবারে ১-১১ এ রয়েছে তার বিশেষ অবদান। ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলার, আস্থাভাজন হয়ে উঠেছিলেন মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের নির্বাহী নেতৃবৃন্দের সহিত কাজ করে যাচ্ছেন আজ অবধি। কর্মদক্ষ হিসেবে কাজ করেছেন পতনউষার ইউনিয়ন পরিষদের সহকারি সচিব হিসেবে সেবা দিয়েছেন সমগ্র ইউনিয়নবাসীকে। হয়ে উঠেছিলেন সকলের প্রিয় নজরুল ভাই হিসেবে। ম্যাানেজিং কমিটির সদস্য ছিলেন পতনউষার উচ্চবিদ্যালয়ের। শিক্ষা, ক্রীড়া, সাংস্কৃতি, সামাজিকতায় পতনউষারে রয়েছে যার অনবদ্য অবদান। প্রবাসে থেকেও বর্তমানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও আরব আমিরাতে সিলেট বিভাগীয় প্রবাসী সমিতি সভাপতি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ স্মৃতি পরিষদ পতনউষারের প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্ব পালন করছেন।

কামরুল আই রাসেলের মাতা ঃ কামরুল আই রাসেলের পিতার মত মাতা নুর জাহান ইসলাম কুড়িয়েছেন অনেক সুনাম। নুরজাহান ইসলাম ছিলেন পতন উষার ইউনিয়ন পরিষদের ১৪ বছরের সফল সংরক্ষিত মহিলা সদস্য। পতন উষার ইউনিয়নের নুরহাজান ইসলাম প্রথম কোন নারী হিসেবে দীর্ঘ দিন ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য।

দাদা ::
প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক (দূভার্গ্য বশত কারণে মুক্তিযুদ্ধা গ্যাজেট ভুক্ত নয়) ছিলেন ব্রিটিশ সেনা সদস্য ও ইপি আর সদস্য ইষ্ট পাকিস্তান। মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন সক্রিয়। এলাকার প্রবীণদের মুখে কতিত রয়েছে- মৌলভীবাজার শহর থেকে ৩ গাড়ি পাঞ্জাবি শমশের নগর চৌমহনার দিকে প্রবেশ করার পথে আব্দুল খালেকের চূরাগুপ্তা ফায়ারিংয়ে বেশ কিছু পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নিহত হয়।

নানা ::
বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফেজ মাওলানা আহমদ হোসেন খান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ সময়ের একজন সাহসী যুদ্ধা।

ভাই ::
বদরুল ইসলাম রুবেল পতন উষারের একজন সফল সংগঠক। পতন উষার ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। পাশাপাশি স্বনামধন্য রংধনু স্পোর্টিং ক্লাবের সহ সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আদর্শ জনকল্যাণ সংস্থার দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্বাধীনতার যুদ্ধে বা যুদ্ধ পরবর্তীতে এলাকা তথা বর্হিঃবিশ্বে কামরুল আই রাসেলের ও তার পরিবারের রয়েছে বিশেষ অবদান এবং বর্ণাঢ্য ঐতিহ্য। অথচ যার নেই কোন চাওয়া-পাওয়া। একজন সাধারণ নাগরিকের মতোই পায়ে হেঁটেই তার জীবন-যাপন। দল এবং সংঠনের কাজ নিয়ে যিনি ব্যস্ত থাকতেই ভালোবাসেন। একজন আদর্শিক মানুষ হিসেবে তাহার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি।

লেখক : বিএসএস (সম্মান), এমএসএস, সমাজবিজ্ঞান, এম.সি কলেজ, সিলেট।

সংবাদ শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

BengalTimesNews.com