বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের মারামারি,পথসভা পণ্ড

মন্ত্রীর সামনেই নেতাকর্মীদের মারামারি, পথসভা পণ্ড

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পথসভায় মারামারি, মঞ্চ ভাংচুরসহ দু’পক্ষে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সামনেই একটি পথসভায় এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আরেকটি পথসভার মঞ্চ ভাংচুর করা হয়েছে।

  • বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় পাঁচটি পথসভা করার ঘোষণা দিয়েছিল উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে নেতাকর্মীদের কোন্দলে দুটি পথসভা কার্যত পণ্ড হয়ে গেছে। পথসভার জন্য নির্ধারিত পাঁচটি স্পট হচ্ছে, নানুপুর ইউনিয়নের আজাদী বাজার, নাজিরহাটের ঝংকার মোড়, বিবিরহাট, ভুজপুর বাজার এবং হেঁয়াকো বাজার।

পুলিশ ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজাদী বাজারে পথসভা শুরুর পর একদল নেতাকর্মী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এস এম আবু তৈয়বের নামে স্লোগান দেওয়া শুরু করেন। এসময় আরেকদল নেতাকর্মী ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরীর নামে স্লোগান দিতে থাকেন।

পাল্টাপাল্টি স্লোগানের মধ্যে প্রধান অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বক্তব্য শুরু করেন। এসময় তিনি স্লোগান বন্ধ করার নির্দেশ দেন। তখন তৈয়বের অনুসারীরা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বক্তব্য অসমাপ্ত রেখে মঞ্চ ত্যাগ করেন।

এরপর নাজিম উদ্দিন মুহুরী ও তৈয়বের অনুসারীরা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। তবে বড় ধরনের সংঘাত সৃষ্টির আগেই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এসময় মন্ত্রী উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ার‌ম্যান এম এ সালামকে নিয়ে নানুপুর মাদ্রাসায় ঢুকে পড়েন। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর পুলিশ প্রহরায় মন্ত্রী ভুজপুরের দিকে চলে যান।

এর আগে নাজিরহাটের ঝংকার মোড়ের পথসভার মঞ্চ ভেঙ্গে দেওয়া হয়। এজন্য আবু তৈয়বের অনুসারীদের দায়ী করেছেন নাজিম উদ্দিন মুহুরীর অনুসারীরা। মঞ্চ ভেঙ্গে দেওয়ায় সেই পথসভা আর হয়নি।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা বলেন, ‘পাঁচটি পথসভার আয়োজন করেছিল আওয়ামী লীগ। মন্ত্রী মহোদয় ছিলেন চিফ গেস্ট। আবু তৈয়ব নামে একজন আছেন, তার লোকজন দুটি পথসভাতে ঝামেলা করেছে। আমাদের ফোর্স প্রথমে কম ছিল। পরে ঘটনা জানতে পেরে ফোর্স আরও বাড়ানো হয়। এজন্য বড় ধরনের কিছু হয়নি।’

এদিকে দলের অন্যতম শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে আয়োজিত পথসভায় সংঘাত সৃষ্টির জন্য ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ও তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারিকে দায়ী করছেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক বেদারুল এইচ এম বেদারুল আলম চৌধুরী বেদার বলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ পথসভার আয়োজন করেছিল। সেখানে ফটিকছড়ির এমপির ইন্ধনে একটি পক্ষ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে। দুটি পথসভায় কিছুটা সমস্যা হলেও বাকি তিনটি সুন্দরভাবে হয়েছে।’

১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ফটিকছড়ি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারি। সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপি থেকে দুইবার মনোনয়ন পেলেও আর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারি বিএনপি ত্যাগ করে তরিকত ফেডারেশন নামে একটি দল গড়েন। গত সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের ব্যানারে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু তৈয়ব সংসদ সদস্য নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারির ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য সমালোচিত আবু তৈয়ব ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছিলেন। পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদপ্রত্যাশীও ছিলেন। কিন্তু কোনো পদই তিনি পাননি। এরপর থেকে এলাকায় আওয়ামী লীগের মূলধারার বিরোধিতা করার অভিযোগ আছে আবু তৈয়বের বিরুদ্ধে।

সর্বশেষ সংবাদ