মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

মন্ত্রী হওয়ার আগে ছিলেন দেনাদার, হওয়ার পর কোটিপতি!

8-3নিউজ ডেস্ক:: ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ছিলেন দেনাদার। দশ বছর পরে একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী তিনি এখন কোটিপতি।

১০ বছর আগে যখন শাজাহান খান মনোনয়নপত্র জমা দেন তখন তার মাসিক আয় ছিল ৫৭ হাজার ৮৬ টাকা। তার স্ত্রীর শিক্ষকতা থেকে মাসে আসত পাঁচ হাজার দুইশ টাকা। তখন তাদের স্বামী-স্ত্রীর হাতে নগদ কোনো টাকা ছিল না। বরং ঋণ ছিল ৪২ লাখ টাকার উপরে। ২০০৮ সালে শাজাহান খানের বার্ষিক আয় ছিল ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬ টাকা। এই হিসাবে প্রতি মাসে আসত ৫৭ হাজার ৮৬ টাকা। ১০ বছরের ব্যবধানে শাজাহান খানের বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ৩৩ লাখ ৬০ হাজার ৪৫৯ টাকা। এই হিসাবে এখন প্রতি মাসে আসে তার ২৭ লাখ ৮০ হাজার ৩৮ টাকা।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় মোতাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের তিনটি ব্যাংক একাউন্টে জমা ছিল ৩ লক্ষ ৩৪ হাজার ৬০৪ টাকা এবং স্ত্রীর ২টি ব্যাংক একাউন্টে জমা ছিলো বারো হাজার ৪৭০ টাকা।

এখন এই মন্ত্রীর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ১ কোটি ২৩ লক্ষ ৫২ হাজার ৩১১ টাকা। এছাড়াও নগদ রয়েছে ২৫ লক্ষ ৪২ হাজার ৪১৩ টাকা। স্ত্রীর নামের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ২০ লক্ষ ৯১ হাজার ৪৩৬ টাকা এবং নগদ রয়েছে ২৩ লক্ষ ৪৮হাজার ৫৬৪ টাকা।

নবম সংসদ নির্বাচনের হলফনামা মোতাবেক তার স্থাবর সম্পত্তি ছিল দশ লক্ষ ৩৪ হাজার ৯৫৩ টাকার। একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী তার সম্পদের পরিমান ৩ কোটি ৯৭ লক্ষ ৭৬ হাজার ৯৩৩ টাকা। এছাড়াও যৌথ মালিকানায় তার নিজের সম্পদ রয়েছে ২ কোটি ৭৫ লক্ষ ২১ হাজার ৫৩২টাকার এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ২ কোটি ৮৭ লক্ষ ৮৬ হাজার ৯০৯ টাকার। হলফনামা অনুযায়ী বর্তমানে তার সম্পাদের পরিমান প্রায় ১০ কোটি টাকার।

২০০৮ সালে শাজাহান খানের নিজ নামে স্থাবর সম্পদ ছিল তিন স্থানে। এছাড়াও গ্রামের বাড়িতে যৌথ মালিকানায় স্থাবর সম্পদ ছিল। বর্তমানে নৌমন্ত্রীর নিজ নামে স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১৫ স্থানে এবং যৌথ মালিকানায় রয়েছে আরো ছয় স্থানে। ১০ বছর আগে নৌমন্ত্রীর স্ত্রীর নামে ছিল দুই স্থানে স্থাবর সম্পদ। বর্তমানে তার স্ত্রীর নামে স্থাবর সম্পদ রয়েছে ১৩ স্থানে। এরমধ্যে একাধিক স্থানে জমি পেয়েছেন দানপত্র এবং হেবা দলিলমূলে। তবে সে জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হলেও দাম উল্লেখ করা হয়নি।

নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এসব চিত্র পাওয়া গেছে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়া এই সাংসদ মাদারীপুর-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। হলফনামা থেকে আরো জানা যায় গোপালগঞ্জ সদর থানার একটি অস্ত্র মামলায় তার বিরুদ্ধে ৫ বছরের এবং ১৯৭০ সালে মাদারীপুর সদর একটি মামলায় তার ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ হয়েছিল।

২০০৮ সালে শাজাহান খানের বার্ষিক আয় ছিল ছয় লাখ ৮৫ হাজার ৩৬ টাকা। এই হিসাবে প্রতি মাসে আসত ৫৭ হাজার ৮৬ টাকা। ১০ বছরের ব্যবধানে শাজাহান খানের বার্ষিক আয় তিন কোটি ৩৩ লাখ ৬০ হাজার ৪৫৯ টাকা। এই হিসাবে এখন প্রতি মাসে আসে তার ২৭ লাখ ৮০ হাজার ৩৮ টাকা।

নৌমন্ত্রীর ২০১৮ সালের বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট-দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে বছরে আসে দুই লাখ ৩৯ হাজার ৪৩৯ টাকা। ১০ বছর আগে আসত ১৫ হাজার ৩৬ টাকা। ব্যবসা থেকে আসত এক লাখ ৭০ হাজার টাকা। বর্তমানে আসে তিন কোটি তিন লাখ ৬২ হাজার ২৫০ টাকা।

বর্তমানে ব্যাংক আমানত থেকে লাভ আসে দুই লাখ ৯১ হাজার ২০০ টাকা। মন্ত্রী এবং সাংসদ হিসেবে পারিতোষিক ও ভাতা আসে ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ টাকা। আগে অন্যান্য খাত থেকে আসত পাঁচ লাখ টাকা।

সর্বশেষ সংবাদ