শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সিলেটে জালিয়াতচক্রের প্রবাসীদের জায়গা দখলের চেষ্টা, চাঁদা দাবি



সিলেট শহরতলীর বিমানবন্দর থানার ডলিয়ায় প্রবাসীদের জায়গা দখলের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে জালিয়াতচক্র। সম্প্রতি সন্ত্রাসী নিয়ে চক্রটি ওই জায়গায় গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। এমনকি জায়গার মালিকদের প্লটে টানানো সাইনবোর্ডে নাম মুছে ফেলে ও কয়েকটি সাইন বোর্ড সরিয়ে ভেঙ্গে ফেলে সংশ্লিষ্টদের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবিরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, যুক্তরাজ্য প্রবাসী বেশ কয়েকজন ও দেশিয় কয়েকজনের সমন্বয়ে ২০০২ সালে ল্যান্ড লিংক প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি গঠিত হয়। এই কোম্পানির একটি প্রকল্প লিটিল লন্ডন সিটি। ১৫ একর ভূমি নিয়ে বিমানবন্দর থানার ডলিয়ায় এই প্রকল্পের অবস্থান। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন মাসুক আহমদ খাঁন। এরপর ২০১৭ সালে আরেক যুক্তরাজ্য প্রবাসী লাভু মিয়া এই পদে থেকে সকল কিছু তদারকি করতেন। পরবর্তি সময়ে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের অন্যরা জানতে পারেন লাভু মিয়া ও অন্য পরিচালক সাইফুল ইসলাম শিপু, আজমল আলী ও মাওলানা শফিক উদ্দিনের যোগসাজশে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে অনেক জাল কাগজ তৈরির পাশাপাশি অর্থনৈতিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে কোম্পানির উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনজারুল আলম চৌধুরী শিমু বলেন, ‘লাভু মিয়ার নানা কারসাজির কারণে পরিচালনা পর্ষদের বিশেষ সাধারণ সভায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর তাকে কোম্পানি আইন ১০৬ ধারা মোতাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালক পদ থেকে বহিস্কার (অব্যাহতি) করা হয়। পরবর্তীতে লাভু মিয়া, সাইফুল ইসলাম গংরা কোম্পানির দলিল জাল করে ভুয়া নামজারি ও খাজনা রশিদ বানিয়ে ২.৭৩ একর ভূমি তাদের মেয়ে, স্ত্রী আত্বীয় ও নিজেদের নামে বিক্রয়ের মাধ্যমে জাল দলিল সৃষ্টি করায় লাভু মিয়া ও অন্যদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। তবে কোম্পানিতে তাদের শেয়ার বহাল রয়েছে’। তিনি বলেন, ‘কিন্তু লাভু মিয়া অব্যাহতির বিষয়টি না মেনে জালিয়াতির মাধ্যমে কোম্পানির ভূমি বিক্রয়সহ নানা তৎপরতা অব্যাহত রাখলে আমরা বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্টে বিভাগে একটি রিট (নং-৪৯/২০২০) করি’।
এদিকে রিট পিটিশন দাখিলের পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি শুনানী শেষে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার এক আদেশে লাভু মিয়াকে কোম্পানির ব্যবসা সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা হতে বিরত থাকার জন্য নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। এমনকি পত্রিকায় লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে ধার্য তারিখে আদালতে হাজির হওয়ার কথা বলা হলেও লাভু মিয়া বা তার কোনো আইনজীবি আদালতে উপস্থিত হননি।
মনজারুল আলম চৌধুরী শিমু আরো জানান, কোম্পানীতে যারা প্রবাসী পরিচালক রয়েছেন তাদের সবাইকে লিটিল লন্ডন সিটিতে এক বিঘা করে জমি দেয়া হয়েছে। তাতে প্রত্যেক মালিকের সাইনবোর্ডও ঝুলানো হয়। কিন্তু লাভু মিয়ার নির্দেশে সম্প্রতি স্থানীয় নুরুল আমিন, কয়েছ শিকদার ও দুলালের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা কয়েকটি সাইনবোর্ড মুছে ও ভেঙ্গে ফেলে। এমনকি প্রকল্পের সম্মুখে কোম্পানি নামীয় কয়েকটি সাইনবোর্ডও মুছে ফেলে। গত ২৩ জুন বর্তমান কর্তৃপক্ষ লিটিল লন্ডন সিটিতে তাদের কার্যক্রম চালালে সন্ত্রাসীরা গিয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। এসময় টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে থানায় যেতে বলেন। পরদিন সন্ধ্যার পর মনজারুল আলম চৌধুরী শিমু ও প্রতিপক্ষরা থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে দেখা করেন। এসময় শিমু চৌধুরী ওসিকে আদালতের আদেশসহ সকল কাগজপত্র দেখান। এরপরও থেমে নেই ওই চক্রটির অপতৎপরতা। তারা বিভিন্ন ভাবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করছে। বলছে, পরিমাণ মতো টাকা দিলে তারা কাজে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা করবে না। এ বিষয়ে গত ৪ জুলাই বিমানবন্দর থানায় একটি জিডি (নং-১১৮) করা হয়।
যোগাযোগ করা হলে রিটাকারীর আইনজীবি বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের অ্যাডভোকেট শেখ খায়রুল আনাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা এখনো বহাল রয়েছে। যদি এই আদেশ কেউ অমান্য করেন তাহলে তা হবে আদালত অবমাননার শামিল। প্রতিপক্ষকে অবশ্যই আদালতের আশ্রয় নিতে হবে’।
এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানার ওসি শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমার উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে বলেছি। বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এখন সবকিছু আদালতের এখতিয়ার; আদালতের নির্দেশের বাইরে এখানে পুলিশের কিছু করার নেই’।