শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

সাংবাদিকরা ইতিহাস সংরক্ষন করে থাকেন

images
খলিলুর রহমান : সাংবাদিকরা ইতিহাস সংরক্ষন করেন। তাদের লিখনী তথ্য ও প্রতিবেদন নিয়েই সৃষ্টি হয় ইতিহাস।রাজনিতি সমাজনীতি , সংস্কৃতি অর্থনীতি, বিচারনীতি এমনকি সমরনিতির পাথেয় হচ্ছে সাংবাদিকদের তথ্যবহুল লেখা ও রিপোর্ট। তথ্য সংগ্রহ সাংবাদিকদের প্রধান নেশা ও পেশা। যে যেভাবেই পারেন তথ্য ও সুত্র সংগ্রহ করে থাকেন। তাইতো গনমাধ্যম নীতিমালায় আছে -সূত্র প্রকাশে সাংবাদিক বাধ্য নয়। আমার মনে পড়ে কয়েকবছর আগের কথা। আমি তখন নিয়মিত কোর্ট রিপোর্ট সংগ্রহ করতাম। তখন প্রায়ই আমার সাথে থাকতেন সহকর্মূী সাংবাদিক ফয়সল আহমদ বাবলু ও সাংবাদিক গোলাম মর্তুজা বাচ্চু। আমি স্থানীয় দৈনিকে কাজ করতাম, তাই জাতীয় দৈনিকের বন্ধু সাংবাদিকদেরও আমি কোর্টের রিপোর্ট দিতাম এবং তারাও নিতেন।একবার আমি সিলেট জেলা জজ কোর্টে কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম ও জঠিলতা বিষয়ে একটি রিপোর্ট সংগ্রহ করি। শুধু মূখের কথা নয় একেবারে কাগুজে ডকুমেন্টসহ রিপোর্ট। যেভাবেই হোক আমি কাগজটা সংগ্রহ করে রিপোর্ট করি। রিপোর্টটি একসাথে প্রকাশ পায় জাতীয় দৈনিক যুগান্তর ও মানবজমিনে। প্রকাশের পর জেলা জজ থেকে তলব করা হয় যুগান্তরের সিলেট ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান আহমদ ও মানবজমিন প্রতিনিধি ওয়েছ খসরুকে। আমার ওই স্থানীয় দৈনিক রিপোর্টটি প্রকাশ করেনি বিধায় আমি রিপোর্ট করেও রেহাই পেয়ে গেলাম তলব থেকে। রিপোর্ট একেবারে ১০০ভাগ সত্য এবং এর অনুকুলেডকুমেন্টও আছে। কিন্তু ডকুমেন্টের ফটোকপিটাতো অফিসিয়াল ভাবে সংগৃহীত নয়, অফিসিয়ালি সিস্টেমে সংগ্রহ করারও কোন উপায় ছিল না।একেবারে গোপন বিষয়, এটা রধরা পড়লে নেমে আসতে পারে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা বা কর্মচারীর উপর অফিস তসররুফের খড়গ।তলব হয়ে রেজওয়ান সাহেব ও ওয়েছ খসরু আমার কাছ থেকে কাগজটি সংগ্রহ করে নিয়েছেন সত্য। কিন্তু তা জেলা জজ সাহেবকে দেখাবেন কিনা। দেখালে আমার ও তাদের কিছুই হবে না। কিন্তু শাস্তির খড়গ নেমে আসবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর উপর। তারা দু’জন আমাকে বললেন জেলা জজ যদি ডকুমেন্ট চান তা হলে কি এটা দেখাতে পারব ? আমি বললাম না দেখাবেন না, উত্তরে আপনারা বিধিবদ্ধ একটি কথাই বলবেন -সূত্র প্রকাশে সাংবাদিক বাধ্য নন’। যাক জেলা জজের চেম্বারে তারা গেলেন। আমি নিচে দাঁড়িয়ে থাকলাম। চিরাচরিত প্রথানুসারে লাল চা দিয়ে তাদের স্বাগত জানানোর পর আলোচনা রিপোর্ট নিয়ে। রিপের্টের সত্যতা নিয়ে প্রশ্নের আগেই প্রশ্ন, আপনারা রিপোর্টটি পেলেন কিভাবে, কি করে এবং কার কাছ থেকে। উত্তরটাতো আগ থেকেই প্রস্তুত । আর সেটা হচ্ছে- তথ্য ও সূত্র প্রকাশে সাংবাদিক বাধ্য নয়’।তারা তাই বললেন,ফলে রিপোর্ট বিষয়ে আলোচনা এখানেই সমাপ্ত। শুধু লাল চা আর আদালত এজলাস নিয়ে করনীয় সংক্ষিপ্ত মতবিনময় শেষেই নিচে নেমে পড়লেন চাচা রেজয়ান ও সহকর্মী ওয়েছ খছরু। গত ২০০৪ ও ২০০৫ সালে চারদলীয় জোট সরকার আমলে সিরিজ বোমা ও জঙ্গী হামলার পরপর অনেক ঘটনা ঘটে যায় সিলেটে। তখন জঙ্গী ঘটনা ও মামলা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে ঢাকা থেকে সিলেটে ছুটে আসতেন বাঘা বাঘা অনেক সাংবাদিক। তারা তথ্য নিতেন আমার মত ছোট ও ক্ষুদে সাংবাদিকদের কাছ থেকে। আমার মনে পড়ে বিকল্প পথে অনেক ডকুমেন্ট ও তথ্য সংগ্রহ করে দিয়েছি আগত সাংবাদিকদের। অনেক ডকুমেন্ট পাঠিয়েছি কুরিয়ারেও। বিশেষ করে আদালতে দেয়া জঙ্গীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী সহ মামলার কাগজাত সংগ্রহ করে দিতে হতো আদালত থেকে। আর তা হতো একবারে গোপনে, এক কথায বলতে গেলে সম্পূর্ন চোরাই পথে টুপাইসের বিনিময়ে। আর সে কাজ টা বেশীরভাগ আমাকে দিয়েই করাতেন মেহমান ও বড় বড় সাংবাদিকরা। সিলেটের দৈনিক ও জাতীয় পত্রিকার অনেক সাংবাদিকের কাছে এধরনের ভুরি ভুরি ডকুমেন্ট আজো সংরক্ষিত আছে। রমনার বটমূলে জঙ্গি হামলায় হরকাতুল জিহাদ প্রধান মুফতি হান্নানের দেয়া ৪৮ পৃষ্টার বিশাল জবানবন্দীর নন অফিসিয়াল ফটোকপি দেশের হাজারো সাংবাদিকদের সংরক্ষনে রয়েছে। তাই বলে কি ওই সাংবাদিকরা হরকাতুল জঙ্গী হয়ে গেলেন? উত্তরটা যদি -না’ সূচক হয়ে তাকে তা’ হলে মর্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় অপহরন ও হত্যা প্রচেষ্টার ডকুমেন্টকপি সংগ্রহ করার ও রাখর দায়ে আশিউর্ধ বর্সীয়ান সাংবাদিক শফিক রেহমান দোষী হলেন কি করে? কেনই বা এর দায়ে তাকে গ্রেফতার করে পাঠানো হলো বন্দীশালায় ?এ প্রশ্ন আজ জাতির বিবেক সাংবাদিকসহ সকল মহলের। আমার এ লেখা পড়ে অনেকে ভাবতে পারেন
,হয়তো আমি সরাকাবিরোধী দলের কোন সাংবাদিক। না, এধরনা সম্পূর্ন অমূলক হবে। দল-মতের উর্ধে থেকে সত্যকে সত্য ,অসত্য অসত্য, ন্যায়কে ন্যায় এবং অন্যায়কে অন্যায় বলে প্রচার ও প্রকাশ সাংবাদিকদের নৈতিক দায়িত্ব। সকল প্রকার পক্ষপাতমূলক চেতনা পরিহার করে জাতীয় ও মানবিক চেতনাকে উর্ধে রেখে যারা দায়িত্ব পালন করতে পারেন তারাই জাতির বিবেক, তারাই সমাজের দর্পন সাংবাদিক। খানিকটা সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আজকের এ লেখা।

সর্বশেষ সংবাদ